ভিয়েতনামে করোনার ‘হাইব্রিড’ ধরন শনাক্ত

975
শেয়ার করতে ক্লিক করুন

করোনাভাইরাসের একটি নতুন ধরন (ভেরিয়েন্ট) শনাক্ত করেছে ভিয়েতনাম। এটি করোনার ভারত ও যুক্তরাজ্যের ধরনের সংমিশ্রণ। করোনার ‘হাইব্রিড’ এ ধরন বাতাসের মাধ্যমে দ্রুত ছড়াতে পারে। ভিয়েতনামের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে আজ রোববার বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

ভিয়েতনামের স্বাস্থ্যমন্ত্রী নগুয়েন থানহ লং গতকাল শনিবার করোনার এই মিউটেশনকে ‘খুবই বিপজ্জনক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

করোনাভাইরাস প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হয়। পরিবর্তিত হয়ে নিজের নতুন নতুন ধরন তৈরি করে। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে করোনা শনাক্ত হওয়ার পর এখন পর্যন্ত এ ভাইরাসের হাজারো মিউটেশন চিহ্নিত করা হয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, করোনার নতুন ধরনটি নিয়ে একটি সরকারি বৈঠকে কথা বলেন ভিয়েতনামের স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

বৈঠকে ভিয়েতনামের স্বাস্থ্যমন্ত্রী নগুয়েন বলেন, ভিয়েতনাম করোনার একটি নতুন ধরন শনাক্ত করেছে। ভারত ও যুক্তরাজ্যে প্রথম শনাক্ত হওয়া করোনার দুটি বিদ্যমান ধরনের একটি মিশ্র বৈশিষ্ট্য রয়েছে ভিয়েতনামে শনাক্ত করোনার নতুন ধরনটিতে।
নগুয়েন বলেন, আগে শনাক্ত হওয়া করোনার সংস্করণগুলোর চেয়ে নতুন এই হাইব্রিড ধরন বেশি সংক্রামক, বিশেষ করে বাতাসে।

ভিয়েতনামে নতুন শনাক্ত হওয়া রোগীদের মধ্যে পরীক্ষা চালিয়ে করোনার এ ধরন পাওয়া গেছে বলে জানান নগুয়েন। তিনি বলেন, নতুন শনাক্ত ধরনের জেনেটিক কোড শিগগির প্রকাশ করা হবে।

ভারতে শনাক্ত করোনার নতুন ধরনটি ‘বি.১.৬১৭.২’ নামে পরিচিত। গত অক্টোবর মাসে এ ধরন শনাক্ত হয়। আর যুক্তরাজ্যে শনাক্ত করোনার নতুন ধরনটি ‘বি.১.১.৭’ নামে পরিচিত। যুক্তরাজ্যের চেয়ে করোনার ভারতীয় ধরনটি বেশি সংক্রামক বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

ভারতে করোনার সংক্রমণের ‘বিস্ফোরণের’ জন্য নতুন ধরনকে অনেকাংশে দায়ী করা হয়। করোনার ভারতীয় ধরনকে ‘উদ্বেগজনক’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

করোনা নিয়ন্ত্রণে ভিয়েতনামের সফলতার ইতিহাস আছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ভিয়েতনামে করোনার সংক্রমণ বাড়তে দেখা যাচ্ছে।

ভিয়েতনামে এখন পর্যন্ত করোনায় ৬ হাজার ৭০০ জনের বেশি করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ সংখ্যার মধ্যে অর্ধেকের বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে চলতি বছরের এপ্রিলের শেষ ভাগ থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত। দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনায় ৪৭ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। করোনা নিয়ন্ত্রণে ভিয়েতনামে টিকাদান কার্যক্রম চলছে।

শেয়ার করতে ক্লিক করুন