সুন্দরবন সম্প্রসারিত হচ্ছে, বেড়েছে বাঘও: প্রধানমন্ত্রী

1213
শেয়ার করতে ক্লিক করুন

সংসদ নেতা বলেন, বর্তমান সরকার সুন্দরবন ও এর জীববৈচিত্র্য রক্ষার বিষয়ে সব সময় আন্তরিক ও বদ্ধপরিকর। দেশের উন্নয়নে যে পদক্ষেপেই নেওয়া হোক না কেন, সুন্দরবন এবং এর জীববৈচিত্র্য যেন কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, এ বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। সুন্দরবনের আয়তন বাড়ানোর জন্য সরকার কৃত্রিম ম্যানগ্রোভ সৃষ্টির উদ্যোগ নিয়েছে। সমগ্র উপকূলীয় অঞ্চলে এর বিস্তৃতি ঘটানোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সুন্দরবনের বৃক্ষাদি এবং বন্য প্রাণী রক্ষার জন্য, তথা বন অপরাধ দমনের জন্য স্মার্ট পেট্রোলিংসহ নানাবিধ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, জীববৈচিত্র্যের আধার সুন্দরবনে এখন ৩৩৪ প্রজাতির উদ্ভিদ, ১৬৫ প্রজাতির শৈবাল, ১৩ প্রজাতির অর্কিড এবং ৩৭৫ প্রজাতির বন্য প্রাণী পাওয়া যায়। বন্য প্রাণীর মধ্যে ৪২ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ৩৫ প্রজাতির সরীসৃপ, ৮ প্রজাতির উভচর, ৩১৫ প্রজাতির পাখি, ২১০ প্রজাতির মাছ, ২৪ প্রজাতির চিংড়ি, ১৪ প্রজাতির কাঁকড়া আছে। সুন্দরবনের গাছপালা ও বন্য প্রাণিকুলকে রক্ষার জন্য বনকর্মীদের যুগোপযোগী করে তুলে এদের সংখ্যা বৃদ্ধির পদক্ষেপের কথাও জানান সরকারপ্রধান।

২০১৭ সালে বন্য প্রাণী অভয়ারণ্য এলাকা সম্প্রসারণ করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সুন্দরবনের প্রায় ৫৩ শতাংশ এলাকা অভয়ারণ্যের অন্তর্ভুক্ত।

উন্নয়নে স্বাধীন গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ

সরকারি দলের সাংসদ শহীদুজ্জামান সরকারের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সংবিধানে রাষ্ট্রের স্পর্শকাতর ও প্রতিরক্ষার মতো স্পর্শকাতর বিষয় ছাড়া অন্য সব বিষয়ে অবাধ তথ্যপ্রবাহসহ গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকার নির্বাহী বিভাগ, আইন বিভাগ ও বিচার বিভাগের পর রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে। দেশের উন্নয়নে স্বাধীন গণমাধ্যম ও গণমুখী সাংবাদিকতার গুরুত্ব অপরিসীম।

গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের জন্য নেওয়া সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে সংসদ নেতা শেখ হাসিনা জানান, সরকার দেশের গণমাধ্যমকে সব ধরনের সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে সমাজে মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে সমুন্নত রেখেছে। তিনি জানান, বর্তমানে দেশে প্রকাশিত পত্রিকার সংখ্যা ৩ হাজার ২২২। এ ছাড়া বেসরকারি খাতে ৪৫টি টেলিভিশন, ২৭টি এফএম রেডিও এবং ৩১টি কমিউনিটি রেডিও চ্যানেলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের ফলে গণমাধ্যম অঙ্গন শক্তিশালী হয়েছে। দেশে টিভি চ্যানেলগুলো এখন অনেক কম খরচে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ ব্যবহার করে সম্প্রচার কার্যক্রম পরিচালন করছে।

শেয়ার করতে ক্লিক করুন