প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘরে অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে

1052
শেয়ার করতে ক্লিক করুন

মুজিববর্ষ উপলক্ষে গৃহহীনদের উপহারের ঘরগুলোতে মানসম্মত ঢালাই দেয়া হয়নি বলে প্রাথমিক তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। এছাড়া তড়িঘড়ি হয়েছে নির্মাণেও। শুক্রবার মুন্সিগঞ্জে প্রকল্প পরিদর্শনে গিয়ে এ কথা জানান আশ্রয়ণ প্রকল্পের পরিচালক। অভিযোগ খতিয়ে দেখতে কর্মকর্তারা সরেজমিনে যান আরও কয়েকটি জেলায়।

মুজিব বর্ষে গৃহহীনদের মধ্যে বিনা মূল্যে বিতরণ করা বেশ কিছু ঘরে ত্রুটি, ধস ও ফাটল ধরার ছবি গণমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পাঁচটি দল গঠন করে জেলায় জেলায় পাঠানো হয়েছে। কোথায়, কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, সেটি খতিয়ে দেখে সরকারপ্রধানকে প্রতিবেদন দেবে তারা।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের পরিচালক মাহবুব হোসেনের নেতৃত্বে শুক্রবার মুন্সিগঞ্জ জেলার সদর উপজেলায় পৌঁছায় দুটি দল। তারা উপহারের বাড়িগুলো পরিদর্শন ও উপকারভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় করে।

সেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান জাহিদ তুষার, আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান, মুন্সিগঞ্জের জেলা প্রশাসক কাজী নাহিদ রসুল, প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব এ বি এম সরওয়ার-ই-আলম সরকারসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও মাঠ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

মুন্সিগঞ্জ সদরের দেওয়ানকান্দির ঘরগুলো কয়েক মাস যেতে না যেতেই দেয়ালে দেখা দেয় ফাটল, খসে পড়ে আস্তরণ, দেবে যায় ঘরের মেঝে। নির্মাণ কাজে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে প্রকল্প পরিচালকের পরিদর্শনের খবরে তাই তড়িঘড়ি করে চলছে মেরামত।

শুক্রবার পরিদর্শনে গিয়ে আশ্রয়ণ প্রকল্প পরিচালক মাহবুব হোসেন জানান, ঘরগুলো মানসম্মত ঢালাই দেয়া হয়নি। নির্মাণও হয়েছে তড়িঘড়ি করে। যেসব ঘরে সমস্যা দেখা দিয়েছে সেগুলো মেরামতের আশ্বাস দিয়েছেন মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসক কাজী নাহিদ রসুল।

পরিদর্শক দলের প্রধান ও দেশজুড়ে বাড়ি নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক মাহবুব হোসেন বলেন, প্রাথমিকভাবে আমি যে তথ্য পেয়েছি, ওখানে ইটের সলিং দেয়ার কথা, সেটা তারা দেয়নি। ঢালাইটাও মানসম্মত না। সেটি পাওয়ার পর কমিটির পরামর্শ অনুযায়ী মেরামত শুরু করা হয়েছে। মুন্সিগঞ্জ সদরে এ কাজের সঙ্গে যারা সম্পৃক্ত ছিল তারা সবাই ওএসডি হয়েছেন।

তিনি বলেন, উপজেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি সবাই মিলে কিন্তু কাজটা করছেন। এই করোনাকালীন ১ লাখ ১৮ হাজার ৩৮০টি ঘর দেয়া, এটা কম কথা নয়। তাদের কাজকে আমরা অবশ্যই সাধুবাদ জানাই এবং কৃতজ্ঞতা জানাই। কিন্তু আমাদের মনটাই খারাপ হয় যখন আমরা দুই-চারটা সমস্যার কথা শুনি।

একই অবস্থা খাগড়াছড়ির মহালছড়ির আশ্রয়ণ প্রকল্পেরও। সরেজমিনে গিয়ে চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার কামরুল হাসান জানান, কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নাটোরে প্রকল্প পরিদর্শন করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি প্রতিনিধি দল। যেসব ঘরে ত্রুটি দেখা দিয়েছে সেগুলো মেরামতের নির্দেশ দেয়ার কথা জানিয়েছেন তারা।

মুজিববর্ষ উপলক্ষে ২৩ জানুয়ারি ৬৬ হাজার গৃহহীন পরিবারকে এবং ২০ জুন দ্বিতীয় দফায় আরও ৫৩ হাজার ৩৪০ পরিবারকে ঘর হস্তান্তর করেন প্রধানমন্ত্রী।

শেয়ার করতে ক্লিক করুন