ফের ১৪ দিনের কঠোর লকডাউনে দেশ

997
শেয়ার করতে ক্লিক করুন

করোনাভাইরাসের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে পবিত্র ঈদুল আজহা শেষে শুক্রবার থেকে ফের শুরু হচ্ছে ১৪ দিনের কঠোর ‘লকডাউন’ বা বিধিনিষেধ। এবারের বিধিনিষেধ আগের যেকোনোবারের চেয়ে কঠোর হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। যানবাহন ও মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) পাশাপাশি সেনাবাহিনীর সদস্যরাও মাঠে থাকবেন।

এ সময়ে তৈরি পোশাক কারখানাসহ শিল্প-কলকারখানা বন্ধ থাকবে। সব ধরনের যানবাহন ও অফিস-আদালত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সব ধরনের যাত্রীবাহী লঞ্চ ও নৌযান চলাচল বন্ধ থাকলেও সীমিত আকারে চলবে ফেরি। তবে ফেরিতে সব ধরনের যাত্রীবাহী গাড়ি ও যাত্রী পারাপারও বন্ধ থাকবে। এ সময়ে ফেরিতে শুধু জরুরি পণ্যবাহী গাড়ি ও অ্যাম্বুলেন্স পারাপার হবে। এ অবস্থা বজায় থাকবে শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে ৫ আগস্ট দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত।

করোনাভাইরাসের ঊর্ধ্বগতির মধ্যেও পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে আর্থ-সামাজিক অবস্থা এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে গত ১৪ জুলাই মধ্যরাত থেকে ২৩ জুলাই (শুক্রবার) সকাল ৬টা পর্যন্ত বিধিনিষেধ শিথিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। গত ১৩ জুলাই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা ওই প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছিল, ২৩ জুলাই সকাল ৬টা থেকে ৫ আগস্ট দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত ফের কঠোর বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে।

সেই বিধিনিষেধের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েই বৃহস্পতিবার নৌ-পরিবহণ মন্ত্রণালয় পৃথক দুটি বিজ্ঞপ্তিতে নতুন করে নৌযান ও ফেরি চলাচলের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধের তথ্য জানিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন ভিডিও বার্তা দিয়েছেন।

‘আগের চেয়ে কঠোর হবে, থাকবে সেনা’

কঠোর বিধিনিষেধের এই সময়ে সরকারের জারি করা নির্দেশনা পূর্ণরূপে মেনে নিজ নিজ অবস্থানে থাকার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। এক ভিডিও বার্তায় ফরহাদ হোসেন বৃহস্পতিবার বলেন, পূর্বঘোষিত লকডাউন আগের চেয়ে কঠোরভাবে পালন করা হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও বিজিবি মাঠে থাকবে।

পোশাক কারখানাসহ সব ধরনের শিল্প-কলকারখানাও বন্ধ থাকবে। করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে সরকার এ পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।

যাঁরা কর্মস্থল ছেড়ে গ্রামে গেছেন, তাঁদের আসার বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী জানান, বিধিনিষেধের প্রজ্ঞাপন বেশ আগেই জারি করা হয়েছে। কাজেই পূর্বঘোষণা থাকা সত্ত্বেও যাঁরা গ্রামে গেছেন, আমরা ধরে নিচ্ছি তাঁরা নিজ নিজ দায়িত্ব নিয়েই গেছেন। তারা বেশ ভালোভাবেই বিধিনিষেধ আরোপের বিষয়টি জানেন। তাঁরা কর্মস্থলে ফিরতে চাইলে বিধিনিষেধ মেনেই ফিরবেন। যাঁরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কর্মস্থলে ফিরতে পারবেন না, তাঁরা নিজ নিজ অবস্থানে থাকবেন।

লঞ্চ-স্পিডবোট-ট্রলার বন্ধ

নৌ-পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের বৃহস্পতিবারের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) জনিত রোগ সংক্রমণের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ১৩ জুলাইয়ের জারিকৃত প্রজ্ঞাপনের পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে ৫ আগস্ট দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ নৌপথে সব ধরনের যাত্রীবাহী নৌযান (লঞ্চ, স্পিডবোট, ট্রলার ও অন্যান্য) চলাচল বন্ধ থাকবে।

ফেরিতে গাড়ি ও যাত্রী পরিবহণ বন্ধ

নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম খান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শুক্রবার সকাল থেকে ফেরিতে যাত্রীবাহী সব ধরনের গাড়ি ও যাত্রী পরিবহণ বন্ধ থাকবে। কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে শুধু জরুরি পণ‍্যবাহী গাড়ি ও অ্যাম্বুলেন্স পারাপার করা হবে।

বিদেশফেরত-গামীদের জন্য চলবে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট

কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যেও বিদেশগামী ও বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের জন্য অভ্যন্তরীণ পথে ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।

বৃহস্পতিবার বেবিচকের নির্দেশনায় এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে বলা হয়েছে, এখন থেকে এয়ারলাইনসগুলো চাইলেই তাদের শিডিউল অনুযায়ী ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারবে। তবে শুধু বিদেশ থেকে আসা এবং বিদেশগামী আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের যাত্রীরা অভ্যন্তরীণ রুটের ফ্লাইটে চলাচল করতে পারবেন।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস এবং নভোএয়ার অভ্যন্তরীণ রুটের ফ্লাইটে শুধু বিদেশি যাত্রীদের বহন করতে পারবে বলেও জানিয়েছে বেবিচক। সংস্থাটি বলেছে, এ ক্ষেত্রে যাত্রীদের আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের টিকিট দেখাতে হবে। সেটি দেখেই অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য বোর্ডিং পাস দিতে হবে। সরকার-নির্ধারিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে ফ্লাইট পরিচালনা করতে হবে।

ব্যাংক খোলা, লেনদেন দেড়টা পর্যন্ত

১৪ দিনের কঠোর লকডাউনের মধ্যেও ব্যাংক খোলা থাকবে। আগামী রোববার থেকে ব্যাংকিং কার্যক্রম চলবে। লেনদেন হবে সকাল ১০টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত।

ব্যাংক খোলা রাখার ব্যাপারে গত ১৩ জুলাই প্রজ্ঞাপন দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে বলা হয়েছিল, সাপ্তাহিক ছুটির দিন ব্যতীত লকডাউন চলাকালে সীমিত পরিসরে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

ঢাকায় ফেরার তাড়া, উপচেপড়া ভিড়

ঈদুল আজহা উপলক্ষে অর্ধকোটির বেশি মানুষ ঢাকা ছেড়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও প্রকৃত সংখ্যা জানা যায়নি। তবে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার জানিয়েছেন, গত ছয় দিনে প্রায় ৮৩ লাখ সিম ঢাকার বাইরে গেছে। যদিও তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ‘মনে রাখবেন এটি কিন্তু মানুষের হিসাব নয়। একজনের ১৫টা অবধি সিম থাকতে পারে। আবার একটি সিমের সঙ্গে বহুজন ঢাকা ছেড়ে যেতে পারেন।

ঈদকে কেন্দ্র করে যারা বাড়ি গিয়েছিলেন তাদের একটি অংশ বৃহস্পতিবার ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছেন। এর প্রভাব পড়েছে শিমুলিয়া-বাংলাবাজার এবং দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ঘাটে। সেখানে ছিল ঢাকাফেরা মানুষের উপচেপড়া ভিড়। স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো বালাই ছিল না। অনেক মানুষ গাদাগাদি করে পার হয়েছে।

এখনো কিছু মানুষ ঢাকা ছেড়ে যাচ্ছে। তাদের ভিড়ও দেখা গেছে ঘাটগুলোতে। রাজধানীর বাসস্ট্যান্ড, রেলওয়ে স্টেশনেও ছিল উল্লেখযোগ্য ভিড়। জেলায়-জেলায় অনেকে বাস-ট্রেন ও লঞ্চের টিকিট না পেয়ে বিকল্প পরিবহণে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়েই ঢাকায় আসার চেষ্টা করছেন।

শিমুলিয়া ঘাটে পারাপারের অপেক্ষায় এখনও ব্যক্তিগত ও পণ্যবাহী গাড়ির দীর্ঘ সারি রয়েছে। এই নৌপথে বর্তমানে ছোট-বড় মিলিয়ে ১৫টি ফেরি সচল রয়েছে। অপরদিকে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া হয়ে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাটে আসা ঢাকামুখী মানুষের চাপ বেড়েছে। ওপার থেকে ফেরি ও লঞ্চে করে পাটুরিয়া ঘাটে এসেই যানবাহনের জন্য হুমরি খেয়ে পড়ছেন যাত্রীরা। এতে ব্যস্ত হয়ে উঠেছে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক। পথে ঘাটে বেড়েছে কিছুটা যাত্রী ভোগান্তি।

সবশেষ করোনা পরিস্থিতি

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ১৮৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৮ হাজার ৬৮৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া দেশে নতুন করে আরও তিন হাজার ৬৯৭ জন আক্রান্ত হয়েছে। এ নিয়ে দেশে মোট ১১ লাখ ৪০ হাজার ২০০ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে আরও বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের ৬৩৯টি ল্যাবে ১০ হাজার ৮৯৯টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ১১ হাজার ৪৮৬টি। করোনা শনাক্তের হার ৩২ দশমিক ১৯ শতাংশ। এই পর্যন্ত নমুনা শনাক্তের হার ১৫ দশমিক ৪৬ শতাংশ।

বিধিনিষেধের আওতামুক্ত যা

এদিকে, গত সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব মো. রেজাউল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে তিনটি বিষয়কে বিধিনিষেধের আওতামুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

১. খাদ্য ও খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন এবং প্রক্রিয়াজাতকরণ কল-কারখানা।

২. কোরবানির পশুর চামড়া পরিবহণ, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ।

৩. ওষুধ, অক্সিজেন ও কোভিড-১৯ প্রতিরোধে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য উৎপাদনকারী শিল্প।

কঠোর লকডাউন সম্পর্কিত ২৩ নির্দেশনা

গত ১৩ জুলাই জারি করা প্রজ্ঞাপনে যেসব বিধিনিষেধ মানার কথা বলা হয়েছে-

১. সকল সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্বশাসিত ও বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে।

২. সড়ক, রেল ও নৌপথে গণপরিবহন (অভ্যন্তরীণ বিমানসহ) ও সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে।

৩. শপিংমল/মার্কেটসহ সব দোকানপাট বন্ধ থাকবে।

৪. সব পর্যটন কেন্দ্র, রিসোর্ট, কমিউনিটি সেন্টার ও বিনোদন কেন্দ্র বন্ধ থাকবে।

৫. সব ধরনের শিল্প-কলকারখানা বন্ধ থাকবে।

৬. জনসমাবেশ হয় এ ধরনের সামাজিক [বিবাহোত্তর অনুষ্ঠান (ওয়ালিমা), জন্মদিন, পিকনিক, পার্টি ইত্যাদি], রাজনৈতিক ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান বন্ধ থাকবে।

৭. বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আদালতের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করবে।

৮. ব্যাংকিং/বীমা/আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করবে।

৯. সরকারি কর্মচারীরা নিজ নিজ কর্মস্থলে অবস্থান করবেন এবং দাপ্তরিক কাজ ভার্চুয়ালি (ই-নথি, ই-মেইল, এসএমএস, হোয়াটসঅ্যাপসহ অন্যান্য মাধ্যম) সম্পন্ন করবেন।

১০. আইনশৃঙ্খলা এবং জরুরি পরিষেবা, যেমন-কৃষি পণ্য ও উপকরণ (সার, বীজ, কীটনাশক, কৃষি যন্ত্রপাতি ইত্যাদি), খাদ্যশস্য ও খাদ্যদ্রব্য পরিবহণ/বিক্রয়, ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্য সেবা, কোভিড-১৯ টিকা প্রদান, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) প্রদান কার্যক্রম, রাজস্ব আদায় সম্পর্কিত কার্যাবলী, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস/জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, টেলিফোন ও ইন্টারনেট (সরকারি-বেসরকারি), গণমাধ্যম (প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া), বেসরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ডাক সেবা, ব্যাংক, ভিসা সংক্রান্ত কার্যক্রম, সিটি করপোরেশন/পৌরসভা (পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সড়কের বাতি ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি কার্যক্রম), সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, ফার্মেসি ও ফার্মাসিউটিক্যালসসহ অন্যান্য জরুরি/অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ও সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিসসমূহের কর্মচারী ও যানবাহন প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়পত্র প্রদর্শন সাপেক্ষে যাতায়াত করতে পারবে।

১১. বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয় খোলা রাখার বিষয়ে অর্থ বিভাগ প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবে।

১২. জরুরি পণ্য পরিবহণে নিয়োজিত ট্রাক/লরি/কাভার্ড ভ্যান/নৌযান/পণ্যবাহী রেল/ফেরি এ নিষেধাজ্ঞার আওতাবহির্ভূত থাকবে।

১৩. বন্দরগুলো (বিমান, সমুদ্র, নৌ ও স্থল) এবং তৎসংশ্লিষ্ট অফিস এ নিষেধাজ্ঞার আওতাবহির্ভূত থাকবে।

১৪. কাঁচাবাজার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে। সংশ্লিষ্ট বাণিজ্য সংগঠন/বাজার কর্তৃপক্ষ/স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি নিশ্চিত করবে।

১৫. অতি জরুরি প্রয়োজন ব্যতীত (ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রয়, চিকিৎসা সেবা, মৃতদেহ দাফন/সৎকার ইত্যাদি) কোনোভাবেই বাড়ির বাইরে বের হওয়া যাবে না। নির্দেশনা অমান্যকারীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

১৬. টিকা কার্ড প্রদর্শন সাপেক্ষে টিকা গ্রহণের জন্য যাতায়াত করা যাবে।

১৭. খাবারের দোকান, হোটেল-রেস্তোরাঁ সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খাবার বিক্রয় (অনলাইন/টেকওয়ে) করতে পারবে।

১৮. আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু থাকবে এবং বিদেশগামী যাত্রীরা তাদের আন্তর্জাতিক ভ্রমণের টিকিট/প্রমাণ প্রদর্শন করে গাড়ি ব্যবহারপূর্বক যাতায়াত করতে পারবেন।

১৯. স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে মসজিদে নামাজের বিষয়ে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় নির্দেশনা দেবে।

২০. ‘আর্মি ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ বিধানের আওতায় মাঠ পর্যায়ে কার্যকর টহল নিশ্চিত করার জন্য সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ প্রয়োজনীয় সংখ্যক সেনা মোতায়েন করবে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট স্থানীয় সেনা কমান্ডারের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি নিশ্চিত করবেন।

২১.জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জেলা পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে সমন্বয়ে সভা করে সেনাবাহিনী, বিজিবি/কোস্টগার্ড, পুলিশ, র‍্যাব ও আনসার নিয়োগ ও টহলের অধিক্ষেত্র, পদ্ধতি ও সময় নির্ধারণ করবেন। সেইসঙ্গে স্থানীয়ভাবে বিশেষ কোনো কার্যক্রমের প্রয়োজন হলে সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেবেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগ এ বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবে।

২২. জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় মাঠ পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সংখাক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করবে।

২৩. সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন, ২০১৮-এর আওতায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনীকে আইনানুগ কার্যক্রম গ্রহণের প্রয়োজনীয় ক্ষমতা প্রদান করবেন।

শেয়ার করতে ক্লিক করুন