শেখ হাসিনাকে লক্ষ্য করেই হয়েছিল গ্রেনেড হামলা

935
শেয়ার করতে ক্লিক করুন

আজ ২১শে আগস্ট। ১৭ বছর আগের এই দিনে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে সমাবেশে চালানো গ্রেনেড হামলায় আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমানসহ প্রাণ হারান ২৪ জন। অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আহত হন পাঁচ শতাধিক নেতা-কর্মী ও সাংবাদিক।

দুই হাজার চার সালের একুশে আগস্ট। তখন ক্ষমতায় ছিল বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার। সেদিন ‘সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতিবিরোধী’ শান্তি সমাবেশের আয়োজন করেছিল তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগ। আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতে প্রধান অতিথি ছিলেন। সন্ত্রাসবিরোধী শান্তি সমাবেশের আগে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে স্থাপিত অস্থায়ী ট্রাকমঞ্চে দাঁড়িয়ে বক্তৃতা রাখেন তিনি। এর পরই শুরু হওয়ার কথা ছিলো সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ-বিরোধী মিছিল।

বিকেল ৫টা ২২ মিনিট। কিছু বুঝে ওঠার আগেই মুহুর্মুহু ১৩টি গ্রেনেড বিস্ফোরণের বীভৎসতায় মুহূর্তেই মানুষের রক্ত-মাংসের স্তূপে পরিণত হয় সমাবেশস্থল। বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ পরিণত হয় এক মৃত্যুপুরীতে।

যে ট্রাকের উপর মঞ্চ তৈরি হয়েছিল তার চালক ছিলেন রফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, প্রথমে একটি গ্রেনেড ট্রাকের ঠিক পেছনে পড়ে এর নীচে চলে যায়। অল্পের জন্য বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুকন্যা।

সেদিন শেখ হাসিনার পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন আমির হোসেন আমুসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা। আমু জানান, সে হামলার লক্ষ্য ছিলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। নেতাকর্মী ও দেহরক্ষীদের মানববর্মে প্রাণে বেঁচে যান তিনি। তবে নিহত হন নারী নেত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ নেতাকর্মী।

ওই দিন শুধু গ্রেনেড হামলাই নয়, সেদিন শেখ হাসিনার গাড়ি লক্ষ্য করেও চালানো হয় ছয়টি গুলি। অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেলেও তিনি আহত হন, তার শ্রবণশক্তি চিরদিনের মতো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হামলার পরপরই শেখ হাসিনাকে কর্ডন করে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁর তৎকালীন বাসভবন ধানমন্ডির সুধা সদনে।

আওয়ামী লীগ বলছে, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা ছিল ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্টের কালরাতের বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ধারাবাহিকতা। আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করতে সংগঠনের সভাপতি শেখ হাসিনাসহ দলের প্রথম সারির নেতাদের হত্যার উদ্দেশ্যেই ওই ঘৃণ্য হামলা চালায় ঘাতক চক্র।

প্রকাশ্য জনসভায় গ্রেনেড হামলা চালিয়ে দেশের শীর্ষ রাজনৈতিকদের হত্যাচেষ্টায় স্তব্ধ হয়ে পড়ে গোটা দেশ। পরে শেখ হাসিনার অভিযোগ করেন, তাকে হত্যার চেষ্টা অনেক আগে থেকেই চলছিল।

২১শে আগস্টের হামলা সাময়িক বিপর্যস্ত করলেও, আবারও শক্ত ভিতে দাঁড়ায় আওয়ামী লীগ। বিশ্বের প্রভাবশালী নেতায় পরিণত হন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা।

শেয়ার করতে ক্লিক করুন