গণপরিবহনে চাঁদাবাজি: পকেট ভরছে কারা?

930
শেয়ার করতে ক্লিক করুন

চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে রাখতেই ঢাকা জেলা যানবাহন শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচিত কমিটিকে দায়িত্ব নিতে দেয়া হচ্ছে না। নির্বাচিত সভাপতি শওকত হোসেন এমন অভিযোগ করে বলেন, আদালতের নির্দেশ অমান্য করে একযুগের বেশি সময় ধরে একটি চক্র ক্ষমতা ধরে রেখেছে। এদিকে বছরে প্রায় সাড়ে সাত কোটি টাকা চাঁদার ভাগ নিয়ে পরস্পরকে দোষারোপ করেন বর্তমান সভাপতি আব্বাস উদ্দিন ও সাবেক এমপি আসলামের ভাই মফিজুল হক বেবু।

ঢাকা জেলা শ্রমিক ইউনিয়নের নামে প্রতিদিন ৩০ টাকা হিসেবে গাবতলির সাড়ে তিন হাজার গাড়ি থেকে চাঁদা ওঠে ১ লাখ ৫ হাজার টাকা। বছরে চাঁদার পরিমাণ দাঁড়ায় ৩ কোটি ৭৮ লাখ। এছাড়া ১০ টাকার তিনটি স্লিপে উঠানো হয় আরও ৩০ টাকা করে। সেখানেও বছরে ওঠে ৩ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। সংগঠনগুলো চাঁদা নেয় শ্রমিক কল্যাণ ও পরিচালনার কথা বলে। অথচ মহামারি বিপর্যস্ত সময়ে ইউনিয়ন থেকে কোনও সহযোগিতা পাননি বলে জানান গাবতলির পরিবহন শ্রমিকরা।

তারা জানান, লকডাউনের সময় আমরা একটাকাও পাইনি। অপর এক ব্যক্তি জানান, তার লাইসেন্সের বয়স ২২ বছর। আজ পর্যন্ত আমি গাবতলি টার্মিনাল থেকে দশ টাকার কোনও সহযোগিতা পাইনি।

ঢাকা জেলা যানবাহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্বাছ উদ্দিন বলেন, চাঁদা হিসেবে তারা ৩০ টাকা নেন। বাকি ৩০ টাকা যায় সাবেক এমপি আসলামের ভাই মফিজুল হক বেবুর কাছে।

আব্বাছ উদ্দিন আরও বলেন, এমপি সাবের ভাই যা খুশি তাই করেছে। আমার কিছু করার নাই। সব টাকা তার কাছে যায়।

অভিযোগ অস্বীকার করে মফিজুল হক বেবু উল্টো দোষ চাপান আব্বাস উদ্দিনের ঘারে। তিনি বলেন, ইউনিয়নের সভাপতি-সেক্রেটারি আছে। তোরা নির্ধারিত টাকাটাই নেয়। ইউনিয়নের টাকা ইউনিয়নে যায় আমার কাছে আসবে কেন।

এদিকে নির্বাচিত হলেও কমিটিকে কাজ করতে দেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন সভাপতি শওকত হোসেন। তিনি বলেন, কোর্টে মামলা থাকা সত্ত্বেও ২০১৮ সালে নির্বাচন দেখি কোর্টে আরেকটি কমিটি জমা দিয়েছে। আমি সে কমিটির বিরুদ্ধে মামলা করেছি। সে মামলাতেও তারা পরাজিত হয়। তার পরেও তারা জোর জবরদস্তি করে আছে। আমরা আইনি সহায়তার জন্য অনেক চেষ্টা করেছি। কোনও দিক থেকে আমরা আইনি সহায়তা পাইনি।

আইনজীবী আব্দুল হাফিজ জানান, আদালতের সিদ্ধান্ত অমান্য করে দায়িত্ব পালনকারী ঢাকা জেলা শ্রমিক ইউনিয়ন বর্তমান কমিটি অবৈধ।

শেয়ার করতে ক্লিক করুন