পাসপোর্ট অফিসের দালালদের বৈধতার চিন্তাভাবনা চলছে: ডিজি

1000
শেয়ার করতে ক্লিক করুন

পাসপোর্ট অধিদপ্তরের বাইরে দালালদের দৌরাত্ম্য কমাতে না পেরে উল্টো এজেন্সির মাধ্যমে তাদের বৈধতা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলছেন, গ্রাহকের সহায়তাকারী হিসেবে কাজ করবেন পাসপোর্ট অফিসের বাইরে কাজ করা ব্যক্তিরা। নীতিমালার আওতায় নির্দিষ্ট ফি নিয়ে গ্রাহকদের সেবা দেবে এ এজেন্সি।

রাজধানীর ধানমন্ডি থেকে আগারগাঁও এসেছেন পঞ্চাশোর্ধ সাহাবুদ্দিন আহমেদ নামে এক ব্যক্তি, উদ্দেশ্য পাসপোর্ট তৈরি করা। কিন্তু আধুনিক সব সুযোগ সুবিধা সম্পন্ন, বিশাল কর্মযজ্ঞের বিশালায়তন পাসপোর্ট অধিদপ্তরের ভবনে না গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন ভবনের সামনের প্রায় অস্তিত্বহীন গাছতলার দোকানের। পাসপোর্ট অধিদপ্তরের বিভিন্ন রকম সেবা বিনামূল্যে পাওয়ার নিয়ম থাকলেও টাকার বিনিময়ে তৃতীয়পক্ষের মাধ্যমেই কাজ সারছেন তিনি।

সেই সাহাবুদ্দিন আহমেদ বলেন, কাজটা যেন নির্ভুল হয় এজন্য তাদের সাহায্য নিয়েছি।

পাসপোর্ট ফরম পূরণ, জমা দিয়ে ছবি তোলা ও বায়োমেট্রিকের জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া এবং ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়ার মতো সাধারণ এবং অত্যাবশ্যকীয় কাজের জন্য দালালের সহায়তা নেন সেবা প্রত্যাশীরা। পাসপোর্ট অফিসের বাইরের চিত্রটা এমনই। আর অধিদপ্তরের কর্মযজ্ঞের বিপরীতে একটি টেবিল আর একটি ল্যাপটপেই মিলছে পাসপোর্টের সব সমস্যার সমাধান। এজন্য গুণতে হয় টাকা।

পাসপোর্ট করতে আসা এক ব্যক্তি জানান, কীভাবে পাসপোর্ট করতে হয় জানি না তাই ওদের কাছে এসেছি।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ রাস্তার পাশে থাকা দালালদের সাহায্য নিতে হয় পাসপোর্ট করার জন্য তাহলে এতবড় স্থাপনার তো দরকার কি?

স্বাধীনতার পর প্রতিষ্ঠিত পাসপোর্ট অধিদপ্তরের উন্নয়ন হয়েছে নানামুখী। বৈশ্বিক চাহিদায় বাংলাদেশও প্রবেশ করেছে ই-পাসপোর্ট যুগে। আর এই পুরো যাত্রাপথে বিষফোঁড়ার মতোই রয়ে গেছে দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য। সম্প্রতি বছরগুলোতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানা সময় চালানো হয়েছে দালাল বিরোধী অভিযান। কিন্তু সময় পরিক্রমায় এসব দালালদেরই দেওয়া হচ্ছে বৈধতা।

দালালরা জানান, কাস্টমারদের সার্ভিস দিতে আমাদের ভালোই লাগে, কিছু কিছু কাস্টমার আছে দালালদের দ্বারা হয়রানি হয় তবে আমরা তাদের নির্ভুল কাজটি করে দেই। সঠিকভাবে ফরমটি পূরণ করে দেওয়ার পর ব্যাংকে টাকা জমার পর তারা অফিসে যান। ফুটপাতে বসার কারণে অনেক সময় পুলিশি হয়রানির স্বীকার হতে হয় আমাদের।

তবে দীর্ঘদিন এ কাজের সঙ্গে জড়িতদের বৈধতার প্রশ্নে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে সেবা গ্রহীতাদের মধ্যে।

ভুক্তভোগীরা জানান, পাসপোর্ট অফিসের সামনে কত দালাল ঘোরে, তারা কি এমনি এমনি ঘোরাফেরা করে? পাবলিক বাধ্য হয়ে তাদের কাছে যাচ্ছে। তারা বলেন, আমি আপনার মাথা ফাটিয়ে দেই তাহলে আপনি হাসপাতালে যাবেন সেলাই করতে, আমরা এখানে আসলে মাথাটা ফাটানো হয় আগে, তারপর আমরা টাকা দিয়ে মাথা সেলাই করে বাসায় যাই।

আরেকজন জানান, রাস্তার পাশে যারা কম্পিউটারে কাজ করেন তারা সিন্ডেকেটের সঙ্গে জড়িত। অলরেডি পাসপোর্ট অফিসের সবাই, আনসার বলেন আর অফিসার বলেন সবাই এ টাকার ভাগ পায়।

নাগরিকদের অধিকাংশ যখন দালালমুক্ত সেবা প্রত্যাশা করেন তখন পাসপোর্ট অধিদপ্তরের দাবি, এর মাধ্যমে গ্রাহকের সেবা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি কমবে দুর্ভোগ।

পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আইয়ুব চৌধুরী বলেন, এটা আমি পুরোপুরি দালাল বলব না, সাহায্যটা যদি পজিটিভ দিকে হয় একটা অর্থের বিনিময়ে। তারপরও এটাকে নীতিমালার আওতায় আনার চিন্তাভাবনা করা হয়েছে। তবে এখনো মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব দেওয়া হয়নি। আমরা এটা নিয়ে আরও আলোচনা করব। কীভাবে এ কাজটাকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনা যায়।
বর্তামানে রাজধানীর আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসের সামনের সড়কেই অর্ধশতাধিক দোকানে এ কাজে যুক্ত রয়েছেন পাঁচ শতাধিক মানুষ।

শেয়ার করতে ক্লিক করুন