পায়রা সেতুর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

941
শেয়ার করতে ক্লিক করুন

পটুয়াখালীতে পায়রা নদীর ওপর নির্মিত দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের বহুল কাঙ্ক্ষিত পায়রা সেতুর উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
রবিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল ১০টায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সেতুর উদ্বোধন করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দৃষ্টিনন্দন এই সেতু দিয়ে গাড়ি নিয়ে যেতে পারলে, একটু হেঁটে দেখতে পারলে ভালো লাগতো। করোনা’র কারণে সেটা সম্ভব হচ্ছে না, তবে আশা আছে।

প্রধানমন্ত্রী পটুয়াখালীসহ দক্ষিণাঞ্চল নিয়ে তার সরকারের মেয়াদে বিভিন্ন উন্নয়ন এবং সম্ভাবনার বিষয় তুলে ধরেন।

এই সেতু উদ্বোধন হলে নির্বিঘ্নে ভ্রমণের মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে সমুদ্রসৈকত কুয়াকাটা। বরিশাল থেকে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত বা পায়রা সমুদ্রবন্দর যেতে ফেরি লাগবে না। বরিশাল থেকে দুই ঘণ্টায় পৌঁছানো যাবে কুয়াকাটা। অর্থনৈতিক উন্নয়নে এগিয়ে যাবে বরিশালসহ দক্ষিণের ছয় জেলা।

এছাড়া পদ্মা সেতু চালু হলে রাজধানী ঢাকা থেকে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত ও পায়রা সমুদ্রবন্দর পর্যন্ত সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হবে। এখন পদ্মা নদী পারাপারের সময় ছাড়া ঢাকা থেকে কুয়াকাটা যেতে ৫ ঘণ্টা লাগবে।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের কর্ণফুলী সেতুর আদলেই এক্সট্রা ডোজ ক্যাবল পদ্ধতিতে পায়রা সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। সেতুতে থাকা ১৬৭টি বক্স গার্ডার সেগমেন্টের কারণে দূর থেকে দেখলে মনে হবে এটি শূন্যে ভেসে আছে। এক হাজার ৪৭০ মিটার দৈর্ঘ্য সেতুটি নির্মাণে বসানো হয়েছে ১৩০ মিটার দৈর্ঘ্যের বেশকিছু পাইল।

এসব পাইল পদ্মা সেতুতে বসানো পাইলের থেকেও অধিক ক্ষমতাসম্পন্ন বলে জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক। ৩২টি স্প্যানের মূল সেতুটি বিভিন্ন মাপের ৫৫টি টেস্ট পাইলসহ ১০টি পিয়ার পাইল ও পিয়ার ক্যাপের ওপর নির্মিত।

এই সেতু নির্মাণে এক হাজার ৪৪৭ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। এর মধ্যে ৮২ শতাংশ অর্থায়নে ছিলো কুয়েত ফান্ড ফর আরব ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড এ্যাপেক্স ফান্ড। ২০১৩ সালের ১৯ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পটুয়াখালী-বরিশাল মহাসড়কের লেবুখালী ফেরিঘাটের দক্ষিণ পাশে এই সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

সেতু নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী আব্দুল হালিম বলেন, সর্বোচ্চ জোয়ারেও নদীর উপরিভাগ থেকে ১৮.৩০ মিটার উঁচুতে থাকবে এই সেতু। চার লেনবিশিষ্ট এই সেতুর উভয় পাশে নির্মিত হয়েছে এক হাজার ২৬৮ মিটার দৈর্ঘ্যের অ্যাপ্রোচ সড়ক। সেতুতে মনোরম আলোকসজ্জা করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সেতুর আলোতে ঝলমল করছে পায়রা নদী-সংলগ্ন এলাকা। দেশে এই প্রথম পায়রা সেতুতে বসানো হয়েছে হেলথ মনিটরিং সিস্টেম। ভূমিকম্প, বজ্রপাত এবং ওভারলোডেড গাড়ির ক্ষেত্রে এই সিস্টেম আগাম সংকেত দেবে। ফলে বড় ধরনের ক্ষতি থেকে রক্ষা পাবে সেতুটি।

শেয়ার করতে ক্লিক করুন