চীনে ফাঁকা পড়ে আছে লাখ লাখ ফ্ল্যাট

929
শেয়ার করতে ক্লিক করুন

চীনের আবাসন কোম্পানি এভারগ্র্যান্ড দেউলিয়া হওয়ার পর নড়েচড়ে বসেছে বিশ্ব। কয়েক সপ্তাহ ধরে খবরের শিরোনাম এই এভারগ্রান্ড। ঋণের পরিমাণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে গেছে এই প্রতিষ্ঠানের। স্থবির হয়ে পড়েছে চীনের আবাসন খাত।

দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, গত কয়েক বছরে সঠিক উপায়ে ব্যবসা পরিচালনা করতে ব্যর্থ হয়েছে এভারগ্রান্ড। এর প্রভাব পড়ছে পুরো চীনে। আতঙ্কে সারাদেশে ফাঁকা পড়ে আছে লাখ লাখ অ্যাপার্টমেন্ট। গত কয়েক বছরে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়েছে।

ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের প্রধান অর্থনীতিবিদ মার্ক উইলিয়ামস বলেন, চীনে এখন ৩ কোটি বাসস্থান অবিক্রীত অবস্থায় আছে। যেখানে চাইলেই দেশটির ৮ কোটি মানুষ থাকতে পারে। এই সংখ্যা জার্মানির মোট জনসংখ্যার সমান। এর মধ্যে আরও ১০ কোটি বাসস্থান বিক্রি হলেও সেখানে থাকেন না কেউ। অথচ পরিত্যক্ত এই বাড়িগুলোতে থাকতে পারেন ২৬ কোটি মানুষ। বহু বছর ধরে পছন্দের তালিকায় থাকা এই বাড়িগুলো এখন ভুতুড়ে বাড়িতে পরিণত হয়েছে।

এসব প্রকল্পের কারণে জনশূন্য শহরগুলোকে এখন ‘ভুতুড়ে শহর’ বলা হচ্ছে। আবাসন খাত এবং এ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো চীনের অর্থনীতির একটি বড় অংশ। দেশটির বার্ষিক জিডিপি প্রবৃদ্ধির ৩০ শতাংশই আসে এ খাত থেকে। বহু বছর ধরেই এসব আবাসন প্রকল্প সমালোচিত হয়ে আসছে।

অর্থনীতিবিদরা আগেই পূর্বাভাস দিয়েছিলেন, এই আবাসন খাত, চীনের প্রবৃদ্ধির ধারক এক সময় দেশটির অর্থনীতির জন্য বোমায় পরিণত হবে। এর পেছনে কারণ হিসেবে এসব প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য অনেক ডেভেলপারের নেওয়া মোটা অঙ্কের ঋণের কথাই বলেছেন অর্থনীতিবিদরা। কয়েক দশক ধরে ক্রমবর্ধমান প্রবৃদ্ধিকে ধারায় রাখতে সহযোগিতা করছে চীনের আবাসন খাত।

চীনের সবচেয়ে ঋণগ্রস্ত ডেভেলপার, এভারগ্রান্ড, তাদের ঋণের বোঝা তিন লাখ কোটি ডলার। এভারগ্রান্ড একাই ঝুঁকির মুখে পড়েনি। গত কয়েক মাসে আরও অনেক আবাসন কোম্পানি তাদের অর্থ সংকটের কথা জানিয়েছে আর ঋণদাতাদের কাছে অর্থ ফেরত দেওয়ার জন্য সময় চেয়েছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ১২টি চীনা রিয়েল এস্টেট কোম্পানি বছরের প্রথমার্ধে প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের বন্ড পরিশোধে ব্যর্থ হয়েছে। এটি বছরের প্রথম ছয় মাসে মোট করপোরেট বন্ড খেলাপির প্রায় ২০ শতাংশ, যা চীনের যে কোনো খাতের মধ্যেই সর্বোচ্চ।

আগস্ট মাসে আবাসন খাতে বিক্রি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৮ শতাংশ কমেছে। একই মাসে নতুন বাড়ির দাম সাড়ে শতাংশ বেড়েছে, যা মহামারি পরবর্তী সময়ে সর্বনিম্ন। এরপর আছে অসমাপ্ত প্রকল্পের সমস্যা। চীনে নতুন বাসস্থানের প্রায় ৯০ শতাংশ বিক্রি হয়ে যায় নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই। নির্মাতাদের যে কোনো বিপত্তি সরাসরি ক্রেতাদের সমস্যায় ফেলছে।

ব্যাংক অব আমেরিকার সাম্প্রতিক প্রতিবেদন বলছে, এভারগ্রান্ড প্রায় দুই লাখ আবাসন ইউনিট বিক্রি করেছে, যেগুলো এখনো ক্রেতাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। চীনের দ্বিতীয় বৃহত্তম ডেভেলপার তাদের ক্রেতাদের খালি হাতে ফিরিয়ে দেবে, এই আশঙ্কা বেড়ে চলেছে।

শেয়ার করতে ক্লিক করুন