জাতীয় চার নেতা হত্যা: ৪৬ বছর পরও ধরাছোঁয়ার বাইরে ১০ খুনি

612
শেয়ার করতে ক্লিক করুন

আড়াই মাসের স্বঘোষিত রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাকের সম্মতিতে জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করে সামরিক বাহিনীর ক’জন সদস্য, যারা বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডেও অংশ নিয়েছিল। ঊনিশশো পঁচাত্তরের তেসরা নভেম্বর কারাগারের ভেতরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডে জড়িত দশ খুনি এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে।
নেপথ্য কুশীলবদের চিহ্নিত করতে ‘বিশেষ কমিশন’ গঠনের দাবির বিষয়ে আইনমন্ত্রী জানিয়েছেন, কমিশন গঠনের কাজ শুরু হয়ে গেছে।

পঁচাত্তরের পনেরোই আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর, অবৈধভাবে রাষ্ট্রপতির আসনে খন্দকার মোশতাক। তার মন্ত্রিসভায় যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় গ্রেপ্তার হন স্বাধীনতা সংগ্রামের সংগঠক জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, এএইচএম কামারুজ্জমান ও ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী।

পহেলা নভেম্বর ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতীয় চার নেতার সঙ্গে সবশেষ দেখা হয় পরিবারের সদস্যদের। দু’দিন পর খন্দকার মোশতাকের সম্মতিতে কারাগারে ঢুকে জাতীয় চার নেতাকে ব্রাশ ফায়ারে হত্যা করে ক’জন সেনা সদস্য। পরিবারের বাকি সদস্যদের ওপর চলতে থাকে নিপীড়ন।

জাতীয় নেতা তাজউদ্দীন আহমদের মেয়ে সিমিন হোসেন রিমি বলেন, ‘যখন আমার বাবাকে জেলে নিয়ে যাওয়ার একমাস পর্যন্ত আমরা গৃহবন্দি ছিলাম। আমার মা’র সঙ্গে বাবার শেষ দেখা হয় পয়লা নভেম্বর।’

জেল হত্যার চল্লিশ বছর পর ২০১৫ সালে আপিল বিভাগের চূড়ান্ত রায় প্রকাশের মধ্যদিয়ে শেষ হয় জাতীয় চার নেতা হত্যার বিচারকাজ। যাতে তিন সেনা সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১২ সেনা কর্মকর্তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়। এর মধ্যে দশ খুনি এখনও পলাতক। তাদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে সাজা কার্যকরের পাশাপাশি নেপথ্য ষড়যন্ত্রকারীদের মুখোশ উন্মোচনের দাবি জাতীয় চার নেতার পরিবারের।

জাতীয় নেতা ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলীর দৌহিত্র তানভীর শাকিল জয় বলেন, ‘শুধুমাত্র কয়েকজন বিপথগামী সেনা সদস্য এর সঙ্গে জড়িত এটা কোনোভাবেই বিশ্বাসযোগ্য না, জিয়াউর রহমান থেকে শুরু করে অনেকে এটার বেনিফিসারী। দেশীয় ষড়যন্ত্রের সঙ্গে আছে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র।’ এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবিও জানান তানভীর শাকিল জয়।

জাতীয় নেতা এএইচএম কামারুজ্জামানের দৌহিত্রী ডা. আনিকা ফারিহা জামান অর্না বলেন, ‘এই ঘটনার নেপথ্যে যারা ছিলো তারা ক্ষমতার লোভে এই হত্যাকাণ্ড করিয়েছে। আমরা বরবরাই বলে এসেছি তদন্ত কমিশন গঠন করা হোক, আমরা যেন সঠিক বিচার পাই।’

এদিকে পরিবারের দাবির বিষয়ে সরকার বলছে, কমিশন গঠনের প্রারম্ভিক কাজ শুরু হয়ে গেছে। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানান, এটার নেপথ্যের ষড়যন্ত্রকারী তাদেরকে খুঁজে বের করার একটা কমিশন করবো, সেটার কাজ শুরু হয়েছে, খুব শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

নেপথ্য কুশীলবদের মুখোশ উন্মোচন হলে জেল হত্যার বিচার পূর্ণতা পাবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

শেয়ার করতে ক্লিক করুন