উপকূলের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে ॥ খাদ্যমন্ত্রী

576
শেয়ার করতে ক্লিক করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক: উপকূলের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। তিনি বলেছেন, দেশ ও জনগণের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনার সরকার নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সকলকে সঙ্গে নিয়েই এগিয়ে যাওয়ার সুস্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন। তারই আলোকে উপকূলের জন্য বিশেষ কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তাসহ জলবায়ু বিরুপ প্রভাব মোকাবেলায় কাজ চলছে।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে উপকূলের বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি একথা বলেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা ‘সুশীলন’-এর নির্বাহী প্রধান মোস্তফা নুরুজ্জামান, বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি তপন বিশ্বাস, সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল ভদ্র, পার্লামেন্ট নিউজের সম্পাদক সাকিলা পারভীন, সুশীলনের সহকারী পরিচালক শাহিনা পারভীন, সচেতন সংস্থার মিঠুন দত্ত প্রমূখ। এ সময় মন্ত্রীর কাছে ‘সুশীলন’-এর ৩০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানের ক্রেস্ট ও সুভেনীর হস্তান্তর করা হয়।

সভায় খাদ্যমন্ত্রী বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার ভিশন ২০৪১ ও ডেল্টা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ উপকূলীয় ও চরাঞ্চলের মানুষকে উন্নয়নের ধারায় সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। খাদ্য নিরাপত্তার জন্য উপকূলীয় জেলা খুলনা ও বরিশালে বড় সাইলো নির্মাণ ছাড়া পারিবারিক সাইলো বিতরণের কর্মসূচী নেওয়া হয়েছে। লবণাক্ততা সহিষ্ণু ধানের আবাদ শুরু হয়েছে। যা উপকূলের জনগনের জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে পুষ্টিকর ও নিরাপদ খাদ্য গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করতে এবং খাদ্যে ভেজাল বিরোধী প্রচারণা জোরদার করার আহবান জানান।

এ সময় মোস্তফা নূরুজ্জামান সুশীলনের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরে বলেন, জলবায়ূ পরিবর্তনে সবচেয়ে বেশী পড়েছে উপকূলের কৃষির উপর। কৃষি উৎপাদন মারাত্মক ভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে কৃষি ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের সুযোগ হ্রাস পাচ্ছে। ফলে দরিদ্র জনগোষ্ঠী বেঁচে থাকার জন্য শহরমুখী হচ্ছে। তারা শহরের বস্তি এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ জীবন যাপন করছে। এই অবস্থা পরিবর্তনের জন্য দূর্যোগ মোকাবেলায় জনগণের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে তাদের পক্ষ থেকে কার্যক্রম চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা ‘সুশীলন’ ১৯৯১ সাল থেকে দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করছে। গত ৩০ বছরে সুশীলন ৬৪টি জেলায় ১৩১টি প্রতিষ্ঠানের সহযোগীতায় ৩৯৬টি প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় এক কোটি পরিবারকে সহযোগীতা করেছে। যার মধ্যে ১০ লক্ষ পরিবারকে দুর্যোগকালীণ সহযোগিতা দিয়েছে। বর্তমানে সুশীলন প্রতিবছর প্রায় ১৫০ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করে। সবার পিছে ও সবার নিচে পড়ে থাকা মানুষের উন্নয়নে সুশীলনের প্রায় ২০০০ হাজার কর্মী কাজ করে যাচ্ছে। সংগঠনের ৩০বছর পূর্তি উপলক্ষে মাসব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে।

শেয়ার করতে ক্লিক করুন