করোনার টিকা: বিদেশ নির্ভরতায় না থেকে উৎপাদনের দিকে নজরের পরামর্শ

773
শেয়ার করতে ক্লিক করুন

চলমান ভাকসিনের কার্যক্রমকে সাধুবাদ জানালেও স্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন টিকার জন্য বিদেশ নির্ভরতায় বসে না থেকে এখন উৎপাদনের দিকে নজর দিতে হবে।

তারা বলছেন, ৮০ ভাগ মানুষকে টিকার আওতায় আনতে হয়তো সামনের বছরের মাঝামাঝি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তবে বুস্টার ডোজের জন্য হলেও উৎপাদনই হতে পারে মূল ভরসা।

গত ২৭ জানুয়ারি ২০২১। বাংলাদেশে করোনা মোকাবিলার যুদ্ধে দিনটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে। উদ্বোধনের ১০ দিন পর সারা দেশে এক যোগে টিকাদান শুরু হয় ৮ ফেব্রুয়ারি। এর আগেই তৈরি করা হয় সুরক্ষা অ্যাপ। পর্যায়ক্রমে ফ্রন্টলাইনার, বয়স্ক ব্যক্তি, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী শেষে স্কুল পর্যায়েও চলছে ভ্যাকসিনের কার্যক্রম। পর্যায়ক্রমে চলছে গণটিকাও যার সব শেষ সংযোজন বস্তিবাসী।

ভারতে করোনা মহামারির কারণে সেরামের টিকা না পাওয়া নিয়ে ক্ষোভ ছিল। গুজব ছিল ভারতের টিকার মান নিয়েও। কিন্তু সব শঙ্কা অনিশ্চয়তা মাড়িয়ে বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত টিকা পেয়েছে ১১ কোটি ডোজ। যার মধ্যে প্রথম ডোজ ৫ ও দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছেন ৩ কোটি মানুষ।

তবে লক্ষ্য হলো ৮০ ভাগ অর্থাৎ ১৩ কোটি মানুষকে দুই ডোজ টিকার আওতায় আনা। কিন্তু বাস্তবতা হলো এখন পর্যন্ত প্রথম ডোজ ২৯ ও দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছেন ১৯ ভাগ মানুষ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এভাবে চললে হয়ত সামনের বছরের মাঝামাঝিতে লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। তবে সবচেয়ে সহজ সমাধান হলো টিকা উৎপাদনের দিকে এগুতে হবে বাংলাদেশকে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার’ সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক মোজাহেরুল হক বলেন, পুরো জনগোষ্ঠীকে টিকার আওতায় যদি আনতে হয় ১৩ কোটি লোককে, তাহলে কিন্তু বাইরের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। এটির উৎপাদনে যেতে হবে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এবং পাওয়াটাকে সহজতর করতে হবে। এভাবে এগুলো জনগোষ্ঠীকে টিকার আওতায় আনা যাবে।

তারা বলছেন, বিশ্বে ওষুধ শিল্পে সুনাম আছে বাংলাদেশের। সেটিকে কাজে লাগিয়ে ভ্যাকসিন তৈরিতে প্রয়োজন সরকারের জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. রিদওয়ান উর রহমান বলেন, ভ্যাকসিন উৎপাদনের সক্ষমতা বাংলাদেশের আছে। এরইমধ্যে অনেক ভ্যাকসিন বাংলাদেশ উৎপাদন করেছে। কোভিড ভ্যাকসিনটাও বাংলাদেশে উৎপাদন করা সম্ভব। তাহলে এটার জন্য স্পেশাল যোগাযোগ লাগবে, ওদের (বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার) একটা সদিচ্ছ লাগবে, ওদের সহানুভূতি লাগবে আমাদের প্রতি।

কারণ দুই ডোজ দেওয়ার পর বুস্টার ডোজ দিতে আরও প্রয়োজন হবে ১৩ কোটি টিকা।

শেয়ার করতে ক্লিক করুন