স্বাস্থ্য খাতের দুর্বলতায় বিদেশে চলে যাচ্ছে হাজার হাজার কোটি টাকা

839
শেয়ার করতে ক্লিক করুন

বিদেশে উন্নত চিকিৎসার পেছনে প্রতিবছর চলে যাচ্ছে হাজার হাজার কোটি টাকা। স্বাস্থ্য ও পর্যটন খাত যুগ উপযোগী করার পরামর্শ বিশ্লেষকদের।
উন্নত স্বাস্থ্য সেবা পেতে ও অবকাশ যাপনের জন্য বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টদের দাবি, অতিরিক্ত চিকিৎসা ব্যয় ও চিকিৎসকদের আন্তরিকতার অভাবে বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা বেশি। আর আর্থিক খাতের বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের স্বাস্থ্য এবং পর্যটন খাত আরও যুগোপযোগী ও আধুনিক করতে না পারলে এই খাতে ব্যয় বেড়েই চলবে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর জরিপে দেখা গেছে, বিদেশে সবচেয়ে বেশি ব্যয় হয় স্বাস্থ্য খাতে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো’র জরিপ অনুযায়ী- ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে দেশের মানুষ বিদেশ যাত্রায় ব্যয় করেছেন ৩৩ হাজার ৬৮৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা। সবচেয়ে বেশি ১০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে চিকিৎসা খাতে। এরপর পরিবহণ খাতে।

ট্যুরিজম বোর্ড জানায়, স্বাভাবিক সময়ে বছরে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ লাখ মানুষ বিদেশ ভ্রমণে যায়। এর বিপরীতে দেশে বছরে পর্যটক আসে মাত্র ৩ থেকে সাড়ে ৩ লাখ।

বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাবেদ আহমেদ বলেন, আমাদের দেশ থেকে মানুশ যখন অন্যান্য দেশে ঘুরতে যায় তারা দলার বা বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ে যাচ্ছে। এটা খুবই স্বাভাবিক। একটা দেশে শুধু পর্যটক আসবে কিন্তু সেদেশ থেকে অন্য দেশে পর্যটক যাবে না এমনতো হয় না।

স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতিরিক্ত চিকিৎসা ব্যয়, চিকিৎসকদের আন্তরিকতার অভাব, রাজনৈতিক নেতাদের বাইরে চিকিৎসা নেয়ার প্রবণতাসহ নানা কারণে বিদেশে চিকিৎসা নেয়ার প্রবণতা বাড়ছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ আব্দুস সবুর বলেন, আমাদের এখানের ডাক্তাররা এতো ব্যস্ত তারা রোগীদের সাথে সময় নিয়ে কথা বলে না। এখনও কেউ সুযোগ পেলেই চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর,ব্যাংকক চলে যাচ্ছে। আর এটার কারণ কিন্তু শুধু চিকিৎসা না, তাদের ওপর আস্থা, সামাজিক স্ট্যাটাস।

আর্থিক খাতের বিশ্লেষকরা বলছেন, স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন করে বিপুল এই অর্থ দেশেই রাখা সম্ভব। একই সাথে দেশের পর্যটন খাতে আরো অনেক উন্নয়নের সুযোগ আছে।

অর্থনীতিবিদ ড. বজলুল হক খন্দকার বলেন, বাইরের দেশে ভ্রমনে যা খরচ হচ্ছে তার মানে এগুলো আমাদের দেশের অর্থনীতিতে কোন কিছু যোগ হচ্ছে না। এই জায়গাটাতে আমাদের জোর দেয়া লাগবে। আমাদেরকে আরও নতুন নতুন ট্যুরিজম প্রোডাক্ট তৈরি করতে হবে।

এ জন্য সরকারি-বেসরকারি খাত এক সাথে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে বলেও মনে করেন তিনি।

শেয়ার করতে ক্লিক করুন