আগামী দুই সপ্তাহে ঢাকার বাইরে করোনা বাড়ার পূর্বাভাস

689
শেয়ার করতে ক্লিক করুন

রাজধানী ঢাকা করোনা সংক্রমণের হার স্থিতিশীল থাকলেও আগামী দুই সপ্তাহে ঢাকার বাইরে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। এরইমধ্যে চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে করোনা সংক্রমণের হার।

অবশ্য সংক্রমণ হারের তুলনায় করোনা পরীক্ষার সংখ্যা খুবই কম বলে উল্লেখ করেছেন তারা। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লে গুরুতর অসুস্থ রোগী এবং মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়বে।

আইইডিসিআর-এর উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হুসেন বলেন, সংক্রমণ যে হারে বাড়ছে, সে অনুযায়ী টেস্ট হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। এখন দিনে এক লাখের বেশি টেস্ট করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, দিনে এক লাখ স্যাম্পল টেস্ট করার সক্ষমতাও আমাদের আছে। ডেল্টা ভেরিয়েন্টের সংক্রমণের সময় রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জে রাস্তায় রাস্তায় টেস্টের গাড়ি গিয়ে কোভিড টেস্ট করেছে। সেই মডেল ফলো করে এখন ভিড় যেখানে বেশি, সেখানে গাড়ি নিয়ে গিয়ে টেস্ট করতে হবে।

১৫ জানুয়ারি ঢাকায় করোনা শনাক্তের হার ছিল ১৬.০১ শতাংশ, যা ২২ জানুয়ারি বেড়ে ২৯.২৭%, ২৮ জানুয়ারি ২৯.৮৪% এবং ২৯ জানুয়ারিতে ৩০.০৩%-এ ঠেকে।

এদিকে চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে সংক্রমণ অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে।

১৫ জানুয়ারি রাজশাহীতে করোনা শনাক্তের হার ছিল ১২ শতাংশ, যা ২২ জানুয়ারি বেড়ে ২৮.৭৯%, ২৮ জানুয়ারি ৭১.৪৫% এবং ২৯ জানুয়ারিতে ৬৩.২১%-এ ঠেকে।

অন্যদিকে, চট্টগ্রামে শনাক্তের হার ১৫ জানুয়ারির ১২.২৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ২২ জানুয়ারিতে ২৯.০৫%, ২৮ জানুয়ারি ৩৬.৮৬% এবং ২৯ জানুয়ারিতে ২৭.৭৭%-এ ঠেকে।

রাজশাহীতে করোনা সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় সন্ধ্যার পর দোকানপাট বন্ধ রাখার গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে জেলা প্রশাসন। গতকাল শনিবার রাত আটটা থেকে রাজশাহী জেলার সব বিপণিবিতান, শপিং মল, বিনোদনকেন্দ্র, রেস্তোরাঁসহ সব ধরনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়ে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

কোভিডের প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি ছিল ঢাকায়। কিন্তু ডেল্টার ঢেউ শুরু হওয়ার পর জুলাই-আগস্ট থেকে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে সংক্রমণ বেড়ে যায়। ওই সময় বিশালসংখ্যক কোভিড রোগীর চাপে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী ও খুলনার হাসপাতালগুলোর অবস্থা ভয়াবহ ছিল।

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় সংক্রমিত আরও ২১ জনের মৃত্যু এবং শনাক্ত হয়েছে ১০ হাজার ৩৭৮ জন।

শেয়ার করতে ক্লিক করুন