গ্যাসের আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতায় বিপাকে সরকার

787
আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের দাম
শেয়ার করতে ক্লিক করুন

গ্যাসের আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতায় বিপাকে সরকার
আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি

দৈনিক যোগান দেয়া গ্যাসের বড় অংশ ব্যবহৃত হয় ৭০টির মতো সিরামিক কারখানায়। এই শিল্পের উৎপাদন থেকে শুরু করে গুণগত মান ধরে রাখা পর্যন্ত অন্যতম নিয়ামক প্রাকৃতিক গ্যাস। উদ্যোক্তাদের হিসাবে, বর্তমানে এই খাতে বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ ছাড়ালেও, মুখ থুবড়ে পড়ার উপক্রম এই জ্বালানি সঙ্কটে।

সিরামিকসের বাইরে, বস্ত্রখাতও গ্যাসের বড় অংশের গ্রাহক। কিন্তু, সেখানেও চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অন্তত ২৫ শতাংশ কম গত তিন মাস ধরে। আর এই সঙ্কটের জন্য দায়ি আমদানির ঘাটতি।

এলএনজির দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠান আরপিজিসিএলের হিসাবে, ডিসেম্বরে গড় আমদানি ছিল দৈনিক ৫৪৩ মিলিয়ন ঘনফুট। যা জানুয়ারিতে নেমে আসে মাত্র ৩৭৫ মিলিয়নে। এই কমে যাওয়ার পেছনে কারণ, এলএনজি আসছে একটিমাত্র জাহাজে। সেটারও পূর্ণ ব্যবহার হচ্ছে না, আন্তর্জাতিক বাজারে চড়া দামের কারণে।

জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকারের জন্য বর্তমানে আরো দুশ্চিন্তার কারণ আন্তর্জাতিক বাজারের চড়া দাম। যা নিয়ন্ত্রণে না এলে, অস্বাভাবিক ভর্তুকির ফাঁদে পড়বে জ্বালানি বিভাগ। এই মুহূর্তে দাম বাড়ানোর বিকল্প নেই উল্লেখ করে তিনি জানান, এটি যাতে ভোক্তাদের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে না যায়, সেদিকে নজর আছে সরকারের।

বর্তমানে অন্তত ২৫ শতাংশ ঘাটতি থাকছে গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহে। যার সমাধানে নির্ভরতা বাড়ছে বিকল্প উৎসের ওপর। অন্যদিকে, চড়া দামের চাপে দিশেহারা সরকারও। ফলে, সমাধান হিসেবে আলোচনায় দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা। প্রতিমন্ত্রীর হিসাবে, ২০২১ সালে, প্রতি ঘনমিটার এলএনজি আমদানিতে গড়ে ব্যয় হয়েছে ২৫ ডলার করে। যা দেশীয় বাজারে কম দামে বিক্রি করায়, বার্ষিক ৯ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি গিয়ে ঠেকছে ১৮ হাজার কোটিতে।

এরই মধ্যে, গ্যাসের দাম দ্বিগুণের ওপরে বাড়ানোর প্রস্তাব জমা পড়েছে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে।

শেয়ার করতে ক্লিক করুন