সার্চ কমিটিতে আসা নাম নিয়ে বিশিষ্টিজনদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া

622
শেয়ার করতে ক্লিক করুন

সার্চ কমিটির কাছে প্রস্তাবিত ৩২২ জনের মধ্যে অনেকেই যেমন নির্বাচন কমিশনে যোগ দিতে আগ্রহী আবার কেউ কেউ প্রকাশ করেছেন অনাগ্রহ। অনেকে দিয়েছেন নানা পরামর্শ। তালিকায় আছেন এমন বেশকজনের সঙ্গে কথা বলে এমনই ধারনা পেয়েছে।
৩২২ জনের মধ্যে রয়েছেন আমলা, শিক্ষাবিদ, সাবেক সেনা কর্মকর্তা, পুলিশ সাংবাদিকসহ নানা পেশার লোকজন।

বেশ কয়েকজন জানান- তারা জানেন না কিভাবে তাদের নাম নাম এসেছে।

সাবেক প্রধান তথ্য কমিশনার অধ্যাপক ড. গোলাম রহমান জানান, তিনি জানেন না কিভাবে তার নাম সার্চ কমিটিতে দেয়া হলো। তিনি বলেন, তাকে যখন ডাকা হয়েছিল তখন তিনি তার মতামত জানিয়েছিলেন। তাকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বা কমিশনের দায়িত্ব দেয়া হবে কিনা তিনি এখনই কিছু জানাতে পারছেন না।

তালিকায় থাকায় কয়েকজন কমিশনে যোগ দিতে আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। আবার কারো রয়েছে অনাগ্রহ।

বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী সুলতানা কামাল জানান, যারা সার্চ কমিটিতে তার নাম প্রস্তাব করেছেন, তিনি তাদেরকে ধন্যবাদ জানান তাকে মনে রাখার জন্য। তবে, তিনি এখন নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট কোন কাজে সময় দিতে পারবেন। তিনি একজন ভোটার হিসেবে যতটুকু সম্ভব দায়িত্ব পালন করবেন। সুশাসনের জন্য নাগরিকের প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, তিনি মন্ত্রী পরিষদকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন তিনি নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কাজে সময় দিতে এই মূহুর্তে আগ্রহী নন। এছাড়া, সাবেক বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী বলেন, তিনি আগামী কয়েক মাস এতটাই ব্যস্ত থাকবেন যে, তাকে এই দায়িত্ব দেয়া হলে, তিনি তা পালন করতে পারবেন না।

তালিকায় নাম এলেও রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় অনেকের রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

বিশিষ্ট সাংবাদিক ও লেখক আবু সাঈদ খান বলেন, সার্চ কমিটির এখনো অনেক কাজ বাকি। আগে তাদের সিদ্ধান্ত দেখে তারপর তার সিদ্ধান্ত জানাবেন। চিত্রঅভিনেতা ও নিরাপদ সড়ক চাইয়ের চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, সার্চ কমিটির অনেক কাজ এখনো বাকি। তারা তাদের কাজ করুক তারপর দেখাশুনে নিজের সিদ্ধান্ত জানাবো।

তালিকায় নাম আসা বিশিষ্টজনদের রয়েছে নানান পরামর্শ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, সার্চ কমিটির নামগুলো দেখেছি। সেগুলো থেকে দক্ষ লোক বাছাই করা খুব কঠিন কাজ হবেনা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাবেক অধ্যাপক ড. আবুল কাশেম ফজলুল হক বলেন, হঠাৎ করেই সবকিছু বদলে ফেলা যাবেনা। আমরা আস্তে আস্তে ভালোর দিকে এগিয়ে যাবো, এটাই তার প্রত্যাশা।

বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি সামাজিক সংগঠনও কমিশন গঠনে নাম প্রস্তাব করেছে। তাদের মধ্যে ১০ জনকে বেছে নিবে সার্চ কমিটি। সেখান থেকে ৫ জনকে দিয়ে রাস্ট্রপতি গঠন করবেন নতুন নির্বাচন কমিশন।

তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, প্রকাশিত তালিকায় অন্তত সাতজনের নাম দুইবার করে রয়েছে। এ হিসেবে ৩১৫ জনের নাম রয়েছে তালিকায়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছেন সাবেক আমলা, ৮৯ জন। এরপরই রয়েছেন আইন পেশায় যুক্ত ব্যক্তিরা। সাবেক দুই প্রধান বিচারপতিসহ ১৫ বিচারপতির নাম এসেছে। রয়েছে ২৩ জন বিচারকের নাম। এছাড়া ২৬ আইনজীবীর নামের প্রস্তাবও এসেছে। সশস্ত্র বাহিনীর ২৭ অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং সাবেক তিন মহাপরিদর্শকসহ নয় অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তার নাম এসেছে। অপরিচিত ও অখ্যাত বেশ কয়েকজনের নামও তালিকায় দেখা গেছে।

ওয়েবসাইটে এই তালিকা প্রকাশ পাওয়ার পর কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘শুকরিয়া’ আদায় করে পোস্ট দিয়েছেন৷ আবার কেউ কেউ এভাবে নাম প্রকাশ করায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন৷ কেউ বলেছেন, দায়িত্ব নিয়ে সারা জীবনের অর্জন খোয়াতে চান না৷ আবার কেউ বলেছেন, দায়িত্ব পেলে তা নিতে রাজি আছেন। কেউ তালিকা থেকে নাম প্রত্যাহারের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে আনুষ্ঠানিক চিঠিও দিয়েছেন।

তালিকায় নাম আসায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন বিশিষ্ট আইনবিদ শাহদীন মালিক। মঙ্গলবার শাহদীন মালিক মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কাছে তালিকা থেকে না প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়ে চিঠি লিখেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি এই পদের জন্য আমার নাম প্রস্তাব করিনি এবং কেন এই তালিকায় আমার নাম রয়েছে তা নিশ্চিত নই। আমি এতদ্বারা উল্লিখিত নামের তালিকা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমার নাম প্রত্যাহার করার জন্য লিখছি এবং ইসির কোনো পদের জন্য বিবেচিত হতে চাই না।’

সার্চ কমিটির তালিকায় থাকা সাংবাদিক ইকবাল সোবহান চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘তালিকায় আমার নাম প্রকাশ হওয়ায় আমি বিব্রত৷ আমার নাম কে দিয়েছেন তাও আমি জানি না৷ আমরা অনুমতিও নেওয়া হয়নি৷ এতে ব্যক্তি হিসেবে আমাকে বিব্রত করা হয়েছে৷ আবার একটি সাংবিধানিক পদের গোপনীয়তা লঙ্ঘন করা হয়েছে৷’

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক হাসান মাহমুদ খন্দকার গণমাধ্যমকে জানান, কে তার নাম দিয়েছে, তা তিনি জানেন না। এরপরেও ইসিতে দায়িত্ব দেওয়া হলে যাবেন কি না, সেই প্রশ্নে তিনি বলেন, এ বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেননি।

পুলিশ সাবেক মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হকও জানান, দায়িত্ব পেলে তা গ্রহণ করবেন তিনি।

সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি মোখলেছুর রহমান জানান, ইসিতে রাখা হলে যাবেন কি না, সে সিদ্ধান্ত তিনি পরে নেবেন।

বাংলা একাডেমির সভাপতি সেলিনা হোসেন বলেন, ‘এসবের মধ্যে যেতে চাই না।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক নিজামুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘আমার চাইতে আরও অনেক বেশি যোগ্য লোক প্রস্তাবিত তালিকায় রয়েছেন। আমি মনে করি, তারা দায়িত্বে এলে ভালো হবে।’

তবে তালিকায় নাম থাকা বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহ জানিয়েছেন, তাকে দায়িত্ব দেওয়া হলে তিনি নির্বাচন কমিশন সম্পর্কে মানুষের যে বিরূপ ধারণা, তা নিরসনে যথাযথভাবে কাজ করবেন।

সার্চ কমিটিতে আসা নাম নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া প্রসঙ্গে মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘সার্চ কমিটির কাছে বিভিন্ন দল, সংগঠন, সুশীল সমাজ ও ব্যক্তি নাম প্রস্তাব করেছে। সেই নামগুলো আমরা প্রকাশ করেছি। এখানে যারা নাম জমা দিয়েছে, তারা কোনো অনুমতি নিয়েছে কি না, সেটি আমাদের দেখার বিষয় নয়। পরবর্তী সময়ে অনুমতির কোনো বিষয় থাকলে আমরা সেটি নিয়ে ভাবব।’

শেয়ার করতে ক্লিক করুন