কিয়েভ দখলে ইউক্রেন ও রুশ সেনাদের মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলি

518
শেয়ার করতে ক্লিক করুন

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ দখলে চতুর্থ দিনের মত তুমুল লড়াই চলছে ইউক্রেন ও রাশিয়ার সেনাদের মধ্যে। কিয়েভের চারপাশে চলছে ব্যপক গোলাগুলি। অস্ত্র গোলাবারুদ দিয়ে বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার পাশাপাশি সাইবার হামলাও প্রতিহত করতে হচ্ছে ইউক্রেনীয়দের।

কিয়েভ শহর কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানায়, এ মুহূর্তে আমাদের শহরের বিভিন্ন রাস্তায় লড়াই চলছে। স্থানীয় বাসিন্দাদেরও এ নিয়ে সতর্ক করা হয়েছে। তাদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে এবং জানালা ও ব্যালকনির কাছে না আসতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ইউক্রেনের সেনাবাহিনী বলছে, রাজধানী কিয়েভে একটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে রাশিয়ার সেনাবাহিনী। তবে তারা সেটি প্রতিহত করেছে। ফেসবুক পোস্টে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী এমন দাবি করেছে। তারা বলছে, ওডেসা বন্দরের কাছে বাণিজ্যিক দুটি জাহাজে রাশিয়া ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। দেশটির সংবাদ সংস্থা ইন্টারফ্যাক্স বলছে, রুশ সেনাবাহিনী কিয়েভের একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র দখলে নেওয়ার চেষ্টা করেছে।

দেশটিতে হামলা চালানোয় রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ তুলে মস্কোকে সামরিক ট্রাইবুনালের মুখোমুখি হতে হবে বলে হুমকি দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী দেনিস শ্মেহাল।

এদিকে আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান সুইফট পেমেন্ট নেটওয়ার্ক সিস্টেম থেকে রাশিয়াকে নিষিদ্ধের ঘোষণা দিয়েছে পশ্চিমা বিশ্ব। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ফ্রান্স জার্মানি, ইতালিসহ বেশ কয়েকটি দেশ রবিবার এ সংক্রান্ত একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করে। এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘রুশ সেনা বাহিনী ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ এবং দেশটির অন্যান্য শহরগুলোতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। রাশিয়াকে আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতি থেকে আরও বিচ্ছিন্ন করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা।’

এছাড়া ইউক্রেনকে সহায়তায় সেনা ও যুদ্ধ সরঞ্জাম সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে নেদারল্যান্ডস ও জার্মানি। এ ঘোষণার অংশ হিসেবে ১ হাজার ট্যাংকবিধ্বংসী অস্ত্র ও ভূমি থেকে আকাশে উৎক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র পাঠাচ্ছে ইউরোপের অন্যতম প্রভাবশালী দেশ জার্মানি।

জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎজ বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সেনা আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য ইউক্রেনের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করব আমরা।’

দেশটিতে মানবিক সহায়তা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে জাতিসংঘ।

শেয়ার করতে ক্লিক করুন