মাদকাসক্তির কারণে চাকরি হারিয়েছে ডিএমপির ১০৬ জন পুলিশ সদস্য

379
শেয়ার করতে ক্লিক করুন

মাদকাসক্তির কারণে চাকরি গেছে ডিএমপির ১শ ৬ পুলিশ সদস্যর। স্বীকার করলে সংশোধনের সুযোগ রয়েছে, বলছেন কমিশনার।
মাদকাসক্তির কারণে ঢাকা মহানগর পুলিশের ১০৬ জন সদস্য চাকরি হারিয়েছেন। গত ২৭ মাসে পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের ১১৩ জনকে শনাক্ত করার পর তারা ডোপ টেস্টে পজিটিভ প্রমাণিত হন। ডিএমপি কমিশনার বলছেন, মাদক কারবারিদের সঙ্গে মেলামেশা, সঙ্গদোষ, পারিবারিক অশান্তির মতো কারণে পুলিশের এই সদস্যরা মাদকে ঝুঁকে পড়েন।

মাদকের বিরুদ্ধে সবসময়ই অভিযান চালিয়ে থাকে পুলিশের সবচেয়ে বড় ইউনিট ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। তবে, প্রায়ই পুলিশ সদসস্যদের বিরুদ্ধে মাদক সেবনের অভিযোগ উঠে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ২০২০ সালের জুলাই থেকে পুলিশ সদস্যদের ডোপ টেস্ট শুরু করে ডিএমপি।

প্রথম দফায় সাতজনের ডোপ টেস্ট করলে বেশির ভাগের ফল পজিটিভ আসে। পরে বিভিন্ন ইউনিটের আরো ১৮ জনের পরীক্ষা করা হলে একজনের পজিটিভ আসে। এতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সতর্ক হন। পর্যায়ক্রমে সন্দেহভাজন সব পুলিশ সদস্যকে ডোপ টেস্ট করা হয়। শনাক্ত করা হয় ১১৩ জনকে। এদের মধ্যে ১০৬ জন মাদকাসক্ত বলে প্রমাণিত হওয়ায় চাকুরিচ্যুত করা হয়েছে। বাকি সাতজনের বিষয়টি আপিল পর্যায়ে আছে।

ডিএমপি কমিশনার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, তাদেরকে পর্যাপ্ত সুযোগ দেয়া হয়েছে। ডেকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে মাদকাসক্ত কি না, চিকিৎসা লাগবে কি না। তারা যদি বলতো ভুল হয়ে গেছে আমাদের একটা সুযোগ দেন বা ঠিক হওয়ার জন্য ছুটি দেন তাহলে তাদেরকে সংশোধনের সুযোগ দিতাম। তারা অস্বীকার করেছে তারা মাদকাসক্ত নয়। কিন্তু আমরা পরীক্ষা করে পজিটিভ পেয়েছি। সেক্ষেত্রে তাদের চাকরিচ্যুত করা ছাড়া আর কোন উপায় নেই।

এখন পর্যন্ত যাদের ডোপ টেস্ট করা হয়েছে তারা কনস্টেবল থেকে উপপরিদর্শক পদমর্যাদার। ডিএমপি কমিশনার বলছেন, উচ্চ পদের কারো বিষয়ে সন্দেহ হলে তাদেরও টেস্টের আওতায় নিয়ে আসা হবে। তবে কেউ মাদকাসক্ত থাকার বিষয়টি স্বীকার করলে সংশোধনের সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা অফিসারদের বাদ দিয়ে কনস্টেবলদের ধরছি। এতে করে কিন্তু তারা আমাদের ওপর আস্থা হারাবে। আমাদের পুরো একটা ডিপার্টমেন্টই আছে এটা দেখার জন্য। একজন ডিসি মাদকাসক্ত হলে তাকে যদি চাকরিচ্যুত করতে হয় সেটা আমার ক্ষমতার বাইরে। আমি শুধু রিপোর্ট দিতে পারি। তবে এই রিপোর্টটা পাঠাতে আমাকে বাধা দেয়ার কারো এখতিয়ার নাই।

চাকরিচ্যুত পুলিশ সদস্যরা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। এক্ষেত্রে যেকোনো বড় ধরনের অপরাধ করার সম্ভবনা রয়েছে। তাই তাদের নজরদারিতে রাখতে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে বলা হয়েছে বলে জানান ডিএমপি কমিশনার।

শেয়ার করতে ক্লিক করুন