রাশিয়ার কাছ থেকেই অর্থ আদায় করবে ইউক্রেন

641
শেয়ার করতে ক্লিক করুন

রাশিয়ার সামরিক অভিযানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিমান ধ্বংস হয়েছে। ‘আন্তোনোভ এএন টু টু ফাইভ (এএন ২২৫) ম্রিয়া’ ধ্বংস হলেও পুনরায় তা নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছে ইউক্রেন।

দেশটির রাষ্ট্রীয় সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, এটিকে মেরামত করতে ৩০০ কোটি ডলার খরচ হবে, সময় লাগবে পাঁচ বছর। এটির খরচ রাশিয়া থেকেই নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে কিয়েভ।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিমানটির নাম দেওয়া হয়েছিল ‘ম্রিয়া’ বা স্বপ্ন। ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানে আন্তোনোভ এএন টু টু ফাইভ ম্রিয়া ধ্বংসের মধ্য দিয়ে দেশটির একটি স্বপ্নও ধূলিসাৎ হয় বলে উল্লেখে করা হয়।

ইউক্রেনে রুশ হামলার মধ্যেই শুক্রবার হস্তোমেল বিমানঘাঁটি দখলে নেওয়ার কথা জানায় রাশিয়া। আর সেখানেই রাখা ছিল বিশ্বের সবচেয়ে বড় কার্গো বিমান ম্রিয়া। বিমানবন্দরে রাশিয়ার গোলার আঘাতে পুড়ে যায় সে স্বপ্ন। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্রো কুলেবা জানান, রুশ সেনারা বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিমান ‘ম্রিয়া’ ধ্বংস করেছে, তবে তাদের স্বপ্ন এখনও অটুট আছে।

রোববার ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক টুইটবার্তায় উড়োজাহাজটির একটি ছবি দিয়ে বলেন, ‘এটি ছিল বিশ্বের বৃহত্তম বিমান এএন-২২৫ ‘ম্রিয়া’ (ইউক্রেনীয় ভাষায় স্বপ্ন)।’

‘রাশিয়া হয়তো আমাদের “স্বপ্ন” ধ্বংস করেছে। কিন্তু তারা কখনোই আমাদের শক্তিশালী, স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক ইউরোপীয় রাষ্ট্রের স্বপ্নকে ধ্বংস করতে পারবে না। আমরা জয়ী হব!’ টুইটে তিনি বলেন।

এদিকে কার্গো বিমানটিকে পুনরায় নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা বাহিনীর রাষ্ট্রীয় সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ইউক্রোবরোনপ্রোম। এরইমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত বিমানটিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। বিমান সংস্কারে পাঁচ বছর সময় লাগবে। খরচ হবে ৩০০ কোটি ডলার। রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইচ্ছেকৃতভাবে ইউক্রেনের কার্গো খাত ধ্বংসের অভিযোগ এনে ইউক্রোবরোনপ্রোমের কর্মকর্তারা জানান, মস্কো থেকেই বিমান সংস্কারের ক্ষতিপূরণ আদায় করা হবে।

আন্তোনোভ এয়ারলাইন্সের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এরইমধ্যে বিমানের একটি ইঞ্জিন মেরামতের জন্য খুলে নেওয়া হয়েছে। উড়োজাহাজটি সোভিয়েত ইউনিয়নের শেষ দিকে ১৯৮০’র দশকে তৈরি করা হয়েছিল। স্পেস শাটল পরিবহনের জন্য এটি তৈরি করা হয়। তবে সর্বশেষ করোনা মোকাবিলায় জরুরি সরবরাহের কাজে উড়োজাহাজটি ব্যবহার করা হচ্ছিল।

ছয়টি শক্তিশালী টার্বোফ্যান ইঞ্জিন দিয়ে বানানো হয় এ বিমানটি। আড়াইশ’ টনের বেশি ওজন বহন করতে সক্ষম আন্তোনোভ এএন টু টু ফাইভ ম্রিয়া। দ্বিতীয় বৃহত্তম কার্গো বিমান বানানোর কাজ শুরু হলেও এখনো তা শেষ হয়নি।

শেয়ার করতে ক্লিক করুন