‘নো ফ্লাই জোনে’ সাড়া পাচ্ছেন না জেলেনস্কি

464
শেয়ার করতে ক্লিক করুন

ইউক্রেনের রুশ সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে বারবার ‘নো ফ্লাই জোন’ ঘোষণা করতে পশ্চিমা দেশগুলোকে আহ্বান জানিয়ে আসছে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তবে রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানোর আশঙ্কায় বিষয়টি কর্ণপাত করছেন না বিশ্বনেতারা।

মঙ্গলবার (১৫ মার্চ) কানাডার পার্লামেন্টে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি বলেন, গত ২০ দিনের যুদ্ধে আমরা বুঝতে পেরেছি কারা সত্যিকারের বন্ধু।

মঙ্গলবার দিনভর ইউক্রেনের রাজধানীজুড়ে বিমান হামলার আতঙ্ক এখনো কাটেনি সেখানকার বাসিন্দাদের। চলমান রুশ হামলায় আহতদের সেবা দিতে বোম শেল্টারের নিচে হাসপাতাল তৈরি করেছে ইউক্রেনের চিকিৎসকরা। অন্যদিকে, রুশ বিমান হামলায় বিভিন্ন শহরে কেবল ধ্বংসস্তূপ চোখে পড়ছে। বিমান হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত আবাসিক ভবনে আটকে পড়াদের উদ্ধারে তৎপরতা চালায় উদ্ধারকর্মীরা। এদিকে ইউক্রেনের মারিওপুলে রুশ সেনারা একটি হাসপাতালে রোগী ও চিকিৎসকসহ ৪০০ জনকে আটকে রেখেছে বলে দাবি করেছে নগরীর উপমেয়র।

এমন পরিস্থিতিতে কানাডার পার্লামেন্টে ভার্চুয়ালি অংশ নিয়ে দেশটির আইনপ্রণেতাদের কাছে আবারো ইউক্রেনের আকাশসীমায় ‘নো ফ্লাই জোন’ ঘোষণার আহ্বান জানান ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেনস্কি। এ সময় বিভিন্ন শহরে চলমান রুশ হামলায় অন্তত ১০০ শিশু নিহত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, রুশ সেনারা আমাদের হাসপাতাল, স্কুল, আবাসিক ভবন সবজায়গায় ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে। এরই মধ্যে কয়েকশ’ শিশু নিহত হয়েছে। অথচ আমাদের বন্ধুরা ধৈর্য ধরার কথা বলছে। আমরা বেশি কিছু চাচ্ছি না। শুধু ন্যায়বিচার ও সমর্থন চাইছি। আমরা শান্তিতে বাঁচতে চাই।

এদিকে রুশ-ইউক্রেন ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন বলে জানান হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জেন সাকি। মঙ্গলবার তিনি জানান, আগামী সপ্তাহে ইউরোপ সফরে যাবেন বাইডেন।

জাতিসংঘে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভেসেলি নেবনজিয়া বলেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার বিশেষ সামরিক অভিযানের লক্ষ্যগুলো পূরণ হলেই কেবল এই যুদ্ধ বন্ধ করতে পারেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

অন্যদিকে চলমান সংকট নিরসনে কিয়েভে পৌঁছার পর বৈঠকে বসেন চেক প্রজাতন্ত্র, পোল্যান্ড এবং স্লোভেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী। ইউক্রেনকে একা ছাড়বেন না বলে প্রতিশ্রুতি দেন ইউরোপের এই তিন নেতা।

উল্লেখ্য, ইউক্রেনে ‘নো ফ্লাই জোন’ ঘোষণা করা হলে সেখানে রাশিয়ার উড়োজাহাজ উড়তে পারবে না। অর্থাৎ রাশিয়া বিমান হামলা চালাতে গেলেও যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন জোট ন্যাটোর প্রতিরোধের মুখে পড়তে হবে। ন্যাটোভুক্ত দেশ নয়, এমন দেশেও ‘নো ফ্লাই জোন’ ঘোষণা করেছিল ন্যাটো। যেমন- লিবিয়া ও বসনিয়া। তবে এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া আর যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া একই কথা।

সূত্র: বিবিসি, আল-জাজিরা, রয়টার্স

শেয়ার করতে ক্লিক করুন