শ্রীলঙ্কায় চালের কেজি ৫০০, চিনি ২৯০

362
শেয়ার করতে ক্লিক করুন

মূল্যবৃদ্ধির আগুনে জ্বলছে শ্রীলঙ্কা। খাদ্য ঘাটতি আর অর্থনৈতিক দুর্দশার কবলে পড়েছে দেশটি। ১৯৪৮ সাল অর্থাৎ স্বাধীনতার পর থেকে এমন চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়তে হয়নি শ্রীলঙ্কাকে। দেশজুড়ে চলছে চরম হাহাকার। অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন অনেকে। দেশের রিজার্ভে অর্থ নেই বললেই চলে। সব মিলিয়ে তীব্র হাহাকার ও অরাজকতা চলছে শ্রীলঙ্কায়।

দেশটিতে চালের কেজি এখন ৫০০ রুপি। এক কেজি চিনির দাম ২৯০ রুপি। ৪০০ গ্রাম দুধের দাম ৭৯০ রুপি। যা এ কালের সর্বোচ্চ। খাদ্য, ওষুধ, গুঁড়ো দুধ, রান্নার গ্যাস এবং জ্বালানির মতো প্রয়োজনীয় জিনিসের দামও বেড়ে গেছে বহুগুণ। খাদ্যসামগ্রী কিনতে মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ ঘাটতির ফলে প্রতিদিন দীর্ঘ সময় ধরে চলছে লোডশেডিং। এ অবস্থায় পাশের বিভিন্ন দেশে পালিয়ে যাচ্ছেন অনেকে। ১৯৮৯ সালে গৃহযুদ্ধের সময় যেভাবে মানুষ পালিয়েছিল এবারও সেই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শ্রীলঙ্কায় গভীর সংকট দেখা দিয়েছে। তাই দেশটির শরণার্থীরা ভারতে ঢুকছে। খাদ্য ঘাটতি, অর্থনৈতিক দুর্দশার জেরে তামিলনাড়ুতে আশ্রয় নিচ্ছেন শ্রীলঙ্কার উদ্বাস্তুরা। মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে দেশটির বিভিন্ন অংশে বিক্ষোভ করেছেন হাজার হাজার মানুষ।

তামিলনাড়ুর গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, আগামী সপ্তাহে প্রায় ২ হাজার উদ্বাস্তু আসার আশঙ্কা রয়েছে। শরণার্থীরা পুলিশকে বলেছে, কয়েক সপ্তাহ ধরে খাবারের জন্য লড়াই করার পর তারা পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছেন। গত সপ্তাহে, কাগজের ঘাটতির কারণে অনির্দিষ্টকালের জন্য স্কুল পরীক্ষা স্থগিত করেছে শ্রীলঙ্কা সরকার।

সারা দেশে মূল্যস্ফীতির কারণে নির্মাণ শ্রমিক ও দিনমজুরেরাও হিমশিম খাচ্ছেন। মান্নার এবং জাফনার লোকেরা ভারতে পৌঁছানোর উপায় খুঁজতে শুরু করেছেন। দেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল না হলে আরও বেশি লোকের দেশ ছেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ মার্চ) ভারতে আসা শরণার্থীদের মধ্যে তিন শিশু ছিল। রামেশ্বরের তীরে একটি দ্বীপে আটকে ছিলেন এ মানুষগুলো। ভারতীয় কোস্টগার্ডের জওয়ানরা তাদের উদ্ধার করে ভারতে নিয়ে আসে। ১০ জনের দ্বিতীয় দল গভীর রাতে ভারতীয় উপকূলে পৌঁছায়।

এ বছর কিস্তিতে ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ পরিশোধ করতে হবে শ্রীলঙ্কাকে। কিন্তু বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ মাত্র দুই বিলিয়নের কাছাকাছি। জরুরি সামগ্রী বাইরে থেকে আনার জন্যও উপযুক্ত টাকা নেই দেশটির কাছে। এ অবস্থায় পাশে থাকার কথা জানিয়েছে চীন। অন্যদিকে ১৭ মার্চ শ্রীলঙ্কায় ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ দেওয়ার ঘোষণা দেয় ভারত। রাষ্ট্রপতি গোটাবায়া রাজাপাকসে বলেছেন, তার সরকার সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সঙ্গে কাজ করবে।

শেয়ার করতে ক্লিক করুন