৩ উইকেট হারিয়ে বিপাকে বাংলাদেশ

162
শেয়ার করতে ক্লিক করুন

আলো স্বল্পতায় ডারবান টেস্টের চতুর্থ দিনের খেলা সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। শেষদিন বোল হাতে বাংলাদেশে ভালো করলেও ব্যাট হাতে নেমে মাত্র ১১ রান তুলতে হারিয়েছে তিন উইকেট। শেষ দিনে বাংলাদেশের জয়ের জন্য প্রয়োজন ২৬৩ রান, সাউথ আফ্রিকার দরকার ৭ উইকেট।

মাহমুদুল হাসান জয়ের পর একই ওভারে মুমিনুল হককেও বিদায় করলেন কেশভ মহারাজ। বাঁহাতি স্পিনারের অ‍্যাঙ্গেলে ভেতরে ঢোকা বলে পিছিয়ে গিয়ে ফ্লিকের চেষ্টায় ব‍্যর্থ হন মুমিনুল। ব‍্যাটের কানা এড়িয়ে আঘাত হানে প‍্যাডে।

এলবিডব্লিউর জোরাল আবেদনে আম্পায়ার সাড়া দিলে রিভিউ না নিয়েই ফিরে যান মুমিনুল। ৪ বলে বাঁহাতি এই ব‍্যাটসম‍্যান করেন ২ রান।

সাদমানের পর ফিরলেন জয়

সাদমানের পর মাত্র ৪ রান করে ফিরলেন মাহমুদুল হাসান জয়। প্রথম ইনিংসে দারুণ বোলিং করলেও উইকেটশূন‍্য ছিলেন কেশভ মহারাজ। এবার তিনি উইকেট পেলেন তৃতীয় ওভারেই। দ্রুত ফিরিয়ে দিলেন মাহমুদুল হাসান জয়কে।

বাঁহাতি স্পিনারের বলের লাইনে যেতে পারেননি তরুণ এই ওপেনার। ব‍্যাট-প‍্যাডের ফাঁক গলে বল আঘাত হানে স্টাম্পে।

প্রথম ইনিংসে প্রায় সাড়ে সাত ঘণ্টা ক্রিজে থাকা জয় এবার টিকলেন কেবল ৯ বল। এক চারে ফিরে গেলেন চার রানেই।

শুরতেই ফিরলেন সাদমান

২৭৪ রানের লক্ষ‍্য তাড়া করতে নেমে ভাঙল বাংলাদেশের শুরুর জুটি। প্রথম ইনিংসে ৯ রান করা সাদমান ইসলাম এবার ফিরলেন শূন‍্য রানে।

প্রথম ইনিংসে শুরুতে চার উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে চাপে ফেলে দেয়া সাইমন হার্মারই পেলেন প্রথম উইকেট। অফ স্পিনারের দ্বিতীয় বলটি পা বাড়িয়ে ডিফেন্স করতে চেয়েছিলেন সাদমান। মিডল স্টাম্পে পড়ে বেরিয়ে যাওয়া বল স্পিন করে তার ব‍্যাটের কানা ছুঁয়ে জমা পড়ে কিগান পিটারসেনের হাতে। বাঁহাতি ওপেনার টেকেন কেবল ২ বল।

২০৪ রানে শেষ সাউথ আফ্রিকা, জয়ের জন্য দরকার ২৭৪

ডারবান টেস্টে বাংলাদেশের জয়ের জন্য দরকার ২৭৪ রান। প্রথম ও দ্বিতীয় ইনিংস শেষে সাউথ আফ্রিকার সংগ্রহ সাউথ আফ্রিকা ৩৬৭ ও ২০৪ রান। এদিকে, প্রথম ইনিংস শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২৯৮ রান। ফলে বাংলাদেশ এখনো ২৭৩ রানে পিছিয়ে রয়েছে।

নিশ্চিতভাবেই চতুর্থ দিনের দ্বিতীয় সেশন ছিল বাংলাদেশের। রানের গতিতে বাধ দেয়া, দ্রুত উইকেট নিয়ে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। প্রথম সেশনে ৯৯ রানে কেবল একটি উইকেট নেয়া সফরকারীরা ঘুরে দাঁড়ায় লাঞ্চের পর।

চা-বিরতিতে যাওয়ার সময় দক্ষিণ আফ্রিকার রান ৫ উইকেটে ১৫৭। আর মাত্র ৪৭ রান করতে হারাতে হয়েছে বাকি ৫ উইকেট। রায়ান রিকেলটন এক পাশ আগলে রাখলেও আরেক পাশ যাওয়া আসার মধ্যে ছিল।

শেষ উইকেট নেন ইবাদত আলী।

পরপর রান আউট

এক বল পর দক্ষিণ আফ্রিকার আরেক ব‍্যাটসম‍্যান ফিরে গেলেন রান আউট হয়ে। ইবাদত হোসেনের বলে দুই রান নিতে চেয়েছিলেন রায়ান রিকেলটন ও লিজাড উইলিয়ামস। কিন্তু সাদমান ইসলামের দারুণ ফিল্ডিংয়ে সফল হননি তারা। সাদমানের থ্রো পেয়ে লিটন দাস বেলস ফেলে দেওয়ার সময় কিছুটা দূরে ছিলেন উইলিয়ামস।

‘ডায়মন্ড ডাক’ অর্থাৎ শূন‍্য বলে শূন‍্য রানে আউট হন উইলিয়ামস।

সোহানের দুর্দান্ত ফিল্ডিং

বদলি ফিল্ডার হিসেবে মাঠে নেমে এই উইকেট ‘এনে দিলেন’ নুরুল হাসান সোহান। ডিপ কাভার থেকে সরাসরি থ্রোয়ে রান আউট করে দিলেন সাইমন হার্মারকে।

প্রথম ইনিংসে অপরাজিত ছিলেন তিনি। শেষ দুই ব‍্যাটসম‍্যানকে নিয়ে যোগ করেছিলেন ৬৯ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে তাকে বেশিক্ষণ টিকতে দেননি সোহান।

মেহেদী হাসান মিরাজের বল ডিপ কাভারে পাঠিয়ে তিন রানের চেষ্টায় ছিলেন হার্মার। কিন্তু সীমানা থেকে সোহানের সরাসরি থ্রো স্টাম্পে লাগায় সফল হতে পারেননি।

২৫ বলে এক চারে ১১ রান করেন হার্মার।

মিরাজের তৃতীয় শিকার মুল্ডার

মিরাজের বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে বল ব্যাটের কোনায় লেগে চলে যায় স্লিপে। অফ স্পিনারের বলে স্লিপে ইয়াসির আলির হাতে ধরা পড়েন দক্ষিণ আফ্রিকার পেস বোলিং অলরাউন্ডার। অফ স্টাম্পের বাইরের ফুল লেংথ বল ড্রাইভ করতে চেয়েছিলেন মুল্ডার। কিন্তু ঠিক মতো পারেননি, ব‍্যাটের কানা ছুঁয়ে জমা পড়ে ইয়াসিরের হাতে।

৪২ বলে ১১ রান করেন মুল্ডার। তার বিদায়ে ভাঙে ৭২ বল স্থায়ী ২০ রানের জুটি।

চতুর্থ দিন (সংক্ষিপ্ত স্কোর)

দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথম ইনিংস: ১২১ ওভারে ৩৬৭। বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ১১৫.৫ ওভারে ২৯৮।
দক্ষিণ আফ্রিকা দ্বিতীয় ইনিংস: ৬৫ ওভারে ১৮৩/৭।

মিরাজের দ্বিতীয় শিকার ভেরেইনা

মেহেদী হাসান মিরাজের বলে রিভার্স সুইপ করতে চেয়েছিলেন কাইল ভেরেইনা। ঠিক মতো শট খেলতে পারেননি তিনি। ব‍্যাটের কানা ছুঁয়ে জুতায় লেগে, গ্লাভস ছুঁয়ে উঠে যায় ক‍্যাচ। সিলি পয়েন্ট থেকে ঝাঁপিয়ে মুঠোয় জমান সাদমান ইসলাম। ১ চারে ১৮ বলে ছয় রান করে ফেরেন ভেরেইনা।

মিরাজের পর ইবাদতের আঘাত

মিরাজের পর শুন্য রানের ব্যবধানে আঘাত হেনেছে ইবাদত হোসেন। টেম্বা বাভুমারকে মাত্র ৪ রানে ফিরেয়ে দেন ইবাদত হোসেন। শর্ট খেলতে গিয়ে ব্যাটের কোনায় লেগে বল চলে যায় স্লিপে। স্লিপে দাঁড়িয়ে থাকা ইয়াসির ক্যাচটি তালুবন্দি করেন।

উইকেট নেওয়ার পর আরেকটি ওভার করে মাঠ ছাড়েন তাসকিন আহমেদ। ডান কাঁধে টেপ প‍্যাচানো অবস্থায় দলের দলের ড্রেসিং রুমে খালেদ মাহমুদ ও রঙ্গনা হেরাথের মাঝে বসে থাকতে দেখা গেছে তাকে।

পিটারসেনকে ফেরালেন মিরাজ

বাংলাদেশ রিভিউ নিলে ফিরে যেতে হতো ১৪ রানে। ‘বেঁচে’ যাওয়ার পর আস্থার সঙ্গে খেলছিলেন কিগান পিটারসেন। ডানহাতি এই টপ অর্ডার ব‍্যাটসম‍্যানকে থামালেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

গুড লেংথ বল পিছিয়ে গিয়ে ঠিক মতো খেলতে পারেননি পিটারসেন। বলে চোখ রেখে শর্ট লেগে চমৎকার ক‍্যাচ নেন মাহমুদুল হাসান জয়। ৮৫ বলে চারটি চারে ৩৬ রান করেন পিটারসেন।

ক্রিজে টেম্বা বাভুমার সঙ্গী অভিষিক্ত রায়ান রিকেলটন।

এলগারকে ফেরালেন তাসকিন

দারুণ এক ডেলিভারিতে এলবিডব্লিউ করে ফিরালেন বাঁহাতি ওপেনার ডিন এলগারকে। অফ স্টাম্পের বাইরে থেকে সুইং করে ভেতরে ঢোকা বল ডিফেন্সের চেষ্টায় ব্যর্থ দেন বাঁহাতি এই ওপেনার। আম্পায়ার জোরাল আবেদনে সাড়া না দিলে রিভিউ নেন মুমিনুল হক।

ইনিংসে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় সফল রিভিউ। অন‍্য ওপেনার এরেল সারউইকেও এলবিডব্লিউর রিভিউ নিয়েই ফিরিয়েছিল সফরকারীরা।

আর এ উইকেটের মাধ্যমে ২৭তম জন্মদিনে উইকেট নিলেন গতিময় পেসার তাসকিন আহমেদ। ভাঙে ১১৪ বল স্থায়ী ৬৮ রানের জুটি। ম্যাচে দ্বিতীয় ফিফটি পাওয়া এলগার ১০২ বলে ৭ চারে করে ফিরেন ৬৪ রানে।

এরউইকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙলেন ইবাদত

সারেল আরউইকে ফিরিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে প্রথম সাফল্য এনে দিলেন এবাদত হোসেন। ৫১ বলে ৮ রান করেন এই ওপেনার। ১৯ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ৫২ রানে ব্যাট করছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ক্রিজে আছেন ডিন এলগার ও কেগান পিটারসেন।

অফ স্টাম্পের বাইরে পড়ে সুইং করে ভেতরে ঢোকা বল ব্যাটে খেলতে পারেননি এরউই। আম্পায়ার জোরাল আবেদনে সাড়া না দিলে রিভিউ নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মুমিনুল হক।

পরে দেখা গেছে, ব‍্যাট স্পর্শ করেনি বল, লাগতো লেগ স্টাম্পে। পাল্টায় আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত। ভাঙে ৪৮ রানের জুটি।

সাউথ আফ্রিকাকে দ্রুত গুটিয়ে দেয়ার লক্ষ্য

ডারবান টেস্টে মাহমুদুল জয়ের অনবদ্য সেঞ্চুরিতে লড়াইয়ে ফিরেছে বাংলাদেশ। জয়ের ১৩৭ রানের ইনিংসে দলের সংগ্রহ থামে ২৯৮ রানে। আলো স্বল্পতায় দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ রান বোর্ডে তোলে প্রোটিয়ারা। তৃতীয় দিনশেষে টাইগাররা পিছিয়ে ৭৫ রানে।

ইনিংসের আলো কেড়েছেন মাহমুদুল হাসান জয়। ওর ব্যাটিং পারফরম্যান্সে মুগ্ধ কোচ জেমি সিডন্স। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে চতুর্থ দিনের শুরুতেই উইকেট নেয়ার তাগিদ টাইগারদের ব্যাটিং পরামর্শকের।

বাংলাদেশ ব্যাটিং পরামর্শক জেমি সিডন্স বলেন, চতুর্থ দিন ম্যাচে ফিরতে প্রথম সেশনে অন্তত তিন উইকেট তুলে নিতে হবে। জয়ের পারফরম্যান্স অসাধারণ ছিল। পুরো ইনিংসটাই ছিল বাংলাদেশের টেস্টের জন্য বিশেষ অর্জন। আমাদের ব্যাটারদের মধ্যে এমন ধৈর্য্যের অভাব-ই দেখা যায়।

তৃতীয় দিনের প্রথম সেশন শেষে লিটন-জয়ের চওড়া হাসি নিয়ে ড্রেসিং রুমে ফেরা, ডমিঙ্গো-সিডন্সদের স্বস্তি। মাউন্ট মঙ্গানুইয়ের মতো ডারবানেও দেখা গেছে টাইগারদের লড়াকু মানসিকতার। হারমার ঘূর্ণিতে লন্ডভন্ড হওয়ার পর, দুই টাইগার ব্যাটার যে অতিথিদের স্বপ্ন দেখিয়েছে দারুণ কিছুর।

লিটনের সহজ ক্যাচ ছেড়ে দেয়ার আক্ষেপে পুড়েছেন প্রোটিয়া অধিনায়ক এলগার। তার হতাশা দূর করেছেন লিজাড উইলিয়ামস। দ্বিতীয় সেশনের শুরুতেই থামেন লিটন। ভাঙে ৮২ রানের জুটি।

একপ্রান্তে আসা যাওয়ার মিছিল, অন্য প্রান্তে অটল, অবিচল জয়। হার না মানার মন্ত্রে উজ্জ্বীবিত টাইগার ব্যাটার, খেলেছেন পরিস্থিতি বুঝে। হাফসেঞ্চুরির পর আরও দায়িত্ব নিয়েছেন। ইয়াসির রাব্বিকে সাহস যুগিয়ে সচল রেখেছেন রানের চাকা।

জয়-রাব্বির ঘুরে দাড়ানোর চেষ্টা থেমেছে অল্পতেই। ভুল বোঝাবুঝিতে ২২ রানে অপমৃত্যু রাব্বির। ভেঙেছে ৩৩ রানের জুটি। কোচ ডমিঙ্গোও অবাক ধৈর্য্যের খেলায় কেন এত অধৈর্য্য টাইগার ব্যাটাররা?

৯০ ঘরে গিয়ে তাড়াহুড়ো করেননি জয়। স্নায়ুচাপ সামলে তুলে নিয়েছেন ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি। ২৬৭ বলে ছুয়েছেন ল্যান্ডমার্ক, যা টেস্টে টাইগারদের হয়ে প্রথম। ধৈর্য্যের পরীক্ষায় জয়ের জয় জয়কার।

সেঞ্চুরি পাওয়া জয়কে ইনিংস বড় করার বার্তা দিয়েছেন কোচ ডমিঙ্গো ও সঙ্গী মিরাজ। যদিও বড় কিছুর স্বপ্ন দেখিয়ে, প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ স্পিন অলরাউন্ডার। অপ্রয়োজনীয় শট খেলে কাটা পড়েন ২৯ কোরে।

খালেদকে নিয়ে লড়াই জমেনি জয়ের। ইনিংস শুরু করা টাইগার ব্যাটার থেমেছেন ক্যারিয়ার সেরা ১৩৭ রানে। অতিথিরা অলআউট ২৯৮ কোরে।

শেষ সেশনে প্রোটিয়া ব্যাটারদের কঠিন পরীক্ষা নিয়েছেন মিরাজ-শান্ত। আলো স্বল্পতায় খেলা গড়ায়নি বেশিদূর। চতুর্থদিন ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রাখতে দায়িত্ব নিতে হবে খালেদ-এবাদতদের। যদিও এক স্পেশালিস্ট স্পিনার অভাবে কাজটা সহজ হবে না টাইগারদের।

শেয়ার করতে ক্লিক করুন