নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে কোরীয় পদ্ধতি চান পররাষ্ট্রমন্ত্রী

275
শেয়ার করতে ক্লিক করুন

নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন না হওয়ায় খরচ বেড়ে যায় বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। এক্ষেত্রে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করে এ সমস্যা সমাধানে দক্ষিণ কোরিয়াকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

বাংলাদেশ-দক্ষিণ কোরিয়ার কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী একথা বলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, যে প্রকল্পের কাজ তিন বছরের মধ্যে শেষ হবার কথা তা বাস্তবায়নে দ্বিগুণেরও বেশি সময় লাগে এদেশে। আর এ কারণে প্রকল্প ব্যয় বেড়ে যায়। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়াতে দেখা গেছে নির্ধারিত সময়ের আগেই তাদের প্রকল্প শেষ হয়ে যাচ্ছে। এজন্য দেশটির প্রযুক্তি, দক্ষতা এবং ব্যবস্থাপনা বিশেষ ভূমিকা রাখে। আমরা আশা করি দক্ষিণ কোরিয়া তাদের এসব অভিজ্ঞতা বিনিময় করে বাংলাদেশের প্রকল্প বাস্তবায়নের ধীর গতি দূর করতে সহায়তা করবে।

এসময় মিয়ানমারের সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের তাগিদ দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, মিয়ানমারের সাথে দক্ষিণ কোরিয়ার বেশ ভালো সম্পর্ক রয়েছে। গত কয়েক বছরে মিয়ানমারে তাদের বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্য পরিমাণ। নিবিড় সম্পর্ক বিবেচনায় নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতি বাড়তি পদক্ষেপ ও সক্রিয় কার্যক্রম নেয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি, বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী যেন তাদের নিজ দেশে ফিরে যেতে পারে।

অনুষ্ঠানে দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত লি জ্যাং কিউন বলেন, তার দেশ বাংলাদেশের পোশাক, জ্বালানি অবকাঠামো ও প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ করেছে। আগামী ৫০ বছরে দেশের নতুন কিছু খাতেও বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহী দক্ষিণ কোরিয়া।

লি জ্যাং কিউন আরো বলেন, চলমান পরিস্থিতিতে বিশ্ব এখন নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে, তবে এক্ষেত্রে দুদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন দিক উন্মোচন করা সম্ভব। আরো নতুন নতুন ক্ষেত্রে আমরা একে অপরে সহযোগিতা করতে পারি। বাংলাদেশের পোশাক খাতে ভূমিকা রাখতে পেরে আমরা গর্বিত। আগামীতে দক্ষিণ কোরিয়া এদেশে আরো বিনিয়োগ বাড়াতে চায়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ঢাকায় কোরীয় দূতাবাস ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইস্ট এশিয়া স্টাডি সেন্টার যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

আলোচনা অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত দেলওয়ার হোসেন ও ইস্ট এশিয়া সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

শেয়ার করতে ক্লিক করুন