শ্রীলঙ্কার নতুন প্রধানমন্ত্রীর শপথ

74
শেয়ার করতে ক্লিক করুন

শ্রীলঙ্কার নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন দেশটির দীর্ঘ সময়ের আইনপ্রণেতা রনিল বিক্রমাসিংহে। এর আগে আরও পাঁচবার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে বৃহস্পতিবার (১২ মে) বিক্রমাসিংহেকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে। এদিন রাজধানী কলম্বোয় প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ে গোতাবায়ার সামনে শপথ পাঠ করেন বিক্রমাসিংহে।

সরকারবিরোধীদের তুমুল বিক্ষোভ-প্রতিবাদের মুখে গত সোমবার প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ান প্রেসিডেন্ট গোতাবায়ার ভাই মাহিন্দা রাজাপাকসে। তার এই পদত্যাগের মধ্য দিয়ে মন্ত্রিসভা ভেঙে যায়। সৃষ্টি হয় প্রশাসনিক শূন্যতা।

এরপর নতুন প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত করতে তোড়জোড় শুরু করেন গোতাবায়া। সেই সঙ্গে নতুন সরকার গঠনে সম্ভাব্য নেতাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যান তিনি।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, বিরোধী দল সামাগি জানা বালাওয়েগয়ার (এসজেবি) নেতা শরৎ ফনসেকাকে প্রধানমন্ত্রিত্বের প্রস্তাব দিয়েছিলেন গোতাবায়। কিন্তু ফনসেকা তার এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। বলেন, গোতাবায়ার অধীনে কোনো দায়িত্ব নিতে চান না তিনি এবং নতুন কোনো সরকারকে সমর্থনও করবেন না।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শোনা যাচ্ছিল প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা সাজিদ প্রেমাদাসার নামও। কিন্তু তিনি শর্ত দেন, গোতাবায়া যদি প্রেসিডেন্ট পদ থেকে সরে যান তাহলে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব তিনি নেবেন।

এরই মধ্যে শ্রীলঙ্কান সংবাদমাধ্যম ডেইলি মিরর জানায়, নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে রাজি হয়েছেন ইউএনপি নেতা রনিল বিক্রমাসিংহে।

১৯৪৯ সালের ২৪ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন রনিল বিক্রমাসিংহে। ছাত্রজীবনে সিলন বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে পড়াশোনা করেন। এরপর সত্তরের দশকের মাঝামাঝি সময়ে রাজনীতিতে যোগ দেন তিনি। ৭৩ বছর বয়সী এই ইউএনপি নেতা একটানা ৪৫ বছর ধরে সংসদে আছেন। তার ব্যাপক আন্তর্জাতিক সংযোগ রয়েছে। তাকে একজন দক্ষ আলোচক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

চলমান সহিংসতার অবসানে ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সরকারের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর চেষ্টা হিসেবে বিরোধী নেতা বিক্রমাসিংহেকে বেছে নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

শেয়ার করতে ক্লিক করুন