দলীয় সরকারের অধীনে সব দেশেই নির্বাচন হচ্ছে: সিইসি

15
শেয়ার করতে ক্লিক করুন

সব দেশেই দলীয় সরকারের অধীনেই নির্বাচন হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। সোমবার (১৩ জুন) ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)- এর সাথে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি এ কথা বলেন।
সিইসি বলেন, সব দেশেই তো দলীয় সরকারের অধীনেই হচ্ছে। ভারতেও হচ্ছে, বিলেতেও হচ্ছে, আমেরিকাতে হচ্ছে। সরকার কিন্তু সরকার। দল ভিন্ন জিনিস। আমরা যদি এই বিভাজনটা স্পষ্ট করতে পারি, এই মেসেজটা দিতে পারি, যখন কেবিনেট যেটাকে বলা হয়- রাষ্ট্রপতি থেকে বা প্রধানমন্ত্রী থেকে ডেপুটি.., এটাই কিন্তু মূল সরকার। বাকি যারা আছে সেটা কিন্তু আমলাতন্ত্র। কাজেই যে সরকার যেটা আছে, তারা কিন্তু শপথ নিয়েছেন, সংবিধানিক অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবো, সম আচরণ করবো, পক্ষিপাতিত্ব করবো না। উনারা বলেন নাই যে আমরা আমাদের দলকে আগামীতে আরো বেশি করে হেল্প করবো। স্বভাবই উনারা বলেন না। আমার বিশ্বাস উনারা উনাদের শপথটা জানেন। নির্বাচনের সময় অন্তত একাট সুষ্ঠু, সুন্দর নির্বাচনের স্বার্থে উনারা নির্বাচনকালীন সরকারের থেকে সরকারের মতোই আচরণ করবেন। সরকারের মন্ত্রী হিসেবে কোনো দলের মন্ত্রী হিসেবে নয়।

নির্বাচনকালীন সরকার সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় যে সরকার থাকবে সেটাই নির্বাচনকালীন সরকার। অপজিশন থেকে যে দাবিগুলো করা হচ্ছে এগুলো নিয়ে আমাদের কোনো মন্তব্য নেই, যে তত্বাবধায়ক সরকার, যে এই সব বিভিন্ন সরকার, সেটা কিন্তু আমাদের বিষয় নয়। এটা সাংবিধানিক বিষয় পলিটিক্যাল লিডাররা যদি একমত হন তারা দেখবেন। আমার কাছে মনে হয় নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে বর্তমানে যে আইন আছে, সেটাই নির্বাচনকালীন সরকার। তার সঙ্গে আমাদের ইন্টারঅ্যাকশন বেড়ে যাবে। একজন মন্ত্রী কিন্তু দলের নয়। আমরা চাই তারা আমাদের সহযোগিতা করুক।

তিনি বলেন, নির্বাচনী কালীণ সরকার বর্তমান যে সরকার তার ধরণ পাল্টে যাবে, তখন পলিসি নিয়ে উনারা কাজ করবেন না। পৃথিবীর সব দেশেই এটা আছে। নির্বাচনের কাজে আমাদেরকে সহায়তা করতে হবে।

সিইসি আলো বলেন, আইন কানুন যেটা আছে সরকার আমাদের সহযোগিতা করতে বাধ্য। সকল নির্বাচনে আমরা সরকারের কাছে সহয়তাগুলো চাইবো এবং অবশ্যই সরকার সে সহযোগিতাগুলো করবে বলে আশাকরি। সহায়তা মূলত পুলিশ প্রশাসন ও জনপ্রশাসন কেন্দ্রীক আর ডিফেন্স মিনিস্ট্রি। অন্য কোনো মিনিস্ট্রি নিয়ে আমাদের মাথা ঘামানোর কোনো দরকার নেই। জনপ্রশাসন যেহেতু জেলা মেজিস্ট্রেটকে হ্যান্ডেল করেন, তারপর পুলিশ প্রশাসনকে হ্যান্ডেল করেন হোম মিনিস্ট্রি, আর সশন্ত্র বাহিনীকে যদি ইনভলব করা হয়, তাহলে ডিফেন্স মিনিস্ট্রি লাগবে। আর একই কথা বারবার বলেছিল অসংখ্যকবার, নির্বাচনটা অংশগ্রহণমূলক হওয়া খুবই প্রয়োজন। যেভাবেই হোক যদি মূল বিরোধী দল নির্বাচনে না আসে, তাহলে নির্বাচন স্বচ্ছ হোক, অস্বচ্ছ হোক, যাই হোক ওটার কিন্তু গুরুত্ব, গ্রহণযোগ্যতা অনেক কমে যাবে। কারণ ডেমোক্রেসির মূল কথাই হচ্ছে পজিশন এবং অপজিশন। আমরা নির্বাচনের মাধ্যমে যেটা দেখি সেটা কিন্তু গভমেন্ট নয়। তারপর জয়ী হয়ে যেটা পার্লামেন্টে আসে দ্যাট ইজ পার্ট অব দি গভমেন্ট, লেজিসলেটার এবং লেজিসলেটার কিন্তু যারা বিরোধী দলে থাকেন তারা ট্রেজারি বেঞ্চ। তাদের কাজই হচ্ছে সমালোচনা করা। এই সমালোচনার মাধ্যমেই কিন্তু এক ধরণের জবাবদিহিতা গড়ে ওঠে এবং সতর্কতা হয়। এজন্য আমরা চাই নির্বাচনটা অংশহগ্রহণমূলক হোক।

সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের রাজনৈতিক দলগুলোকে সঙ্গে বসার আহ্বান জানিয়ে সিইসি বলেন, উনাদের বলেছি, আপনারাও যারা পলিটিকস করেন না, পলিটিক্যালস ঊর্ধ্বে একটা অবস্থান আপনাদের আছে। প্রতিদিন যে আক্রমণাত্মক কমেন্টগুলো দিচ্ছে, সেখানে সরিয়ে নিয়ে এসে যদি টেবিলে মুখোমুখি করা যায়, তাহলে আলোচনা হবে গঠনমূলক। টেবিলের বাইরে গিয়ে যদি ধারাবাহিকভাবে আক্রমণাত্মক বক্তব্য পরস্পর পরস্পরের বিরুদ্ধে দেয়, তাহলে কিন্তু দুরত্ব কমবে না। কারণ আমরা চাচ্ছি নির্বাচনে সকল পার্টি অংশগ্রহণ করুক।

সিইসি আরো বলেন, পুলিশ প্রশাসনকে নিরপেক্ষ থাকতে হবে। নির্বাচন যদি সহিংসতার কারণে বিঘ্নিত হয়ে যায় আমাদের ক্ষমতা আছে যে কোনো একটি সেন্টার বা নির্বাচনটা বাতিল করে দেবো। আমরা সে ব্যাপারে সতর্ক থাকবো। বিরুপ পরিবেশ যাতে না হয়, আমরা চাইবো নির্বাচনে যাতে ভোটাররা যেতে পারে এবং নির্বিঘ্নে যেন ভোট দিতে পারে, সেই খবরটা আমরা রাখবো। আর প্রচন্ড রকম সহিংসতা যদি হয়ে যায়, তাহলে আমরা ক্ষমতা যেটা রয়েছে, দায়িত্ব রয়েছে আমি বলবো সেই সেন্টার বা কনস্টিটোয়েন্সি (আসন) বাতিল করে দিতে পারবো।

নির্বাচনে খরচের বিষয়ে সিইসি বলেন, নির্বাচনে যে নমিনেশন নিয়ে কত খরচ হয়, যার ফলে একটা মনস্তাতিক একটা বিষয় হয়ে দাঁড়ায় যে জয়ী আমাকে হতেই হবে। যে পয়সা আমি খরচ করেছি, তা তুলে আনতেই হবে। এর ফলে কিন্তু একটা সহিংস চরিত্র গড়ে ওঠে। এই জায়গা কিভাবে নিয়ন্ত্রণ হবে জানি না। তবে দলগুলোর নেতৃত্ব উপলিব্ধ করা উচিত যে নির্বাচনটা যেন বাণিজ্য না হয়। মানে আমি বাণিজ্যের জন্য এমপি হতে হবে। নমিনেশনটা এনে যে করেই হোকে নির্বাচনে জিততে হবে, এই মানসিকতা থেকে যদি উনাদের সরিয়ে আনা যায়, তাহলে আমাদের গণতন্ত্র, নির্বাচনি ব্যবস্থাটা বর্তমান অবস্থা থেকে উন্নত অবস্থায় পৌঁছতে পারবে।

এমপিদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, নিয়ন্ত্রণ করতে পারবো কি-না জানি না। কতগুলো বিষয় আছে উনাকে (কুমিল্ল- ৬ আসনের সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার) চিঠি দিয়েছিলাম যেন উনি না থাকেন, এসব নির্বাচন যারা ভিভিআইপি তারা এলাকায় থাকতে পারেন না। কিন্তু সংসদ নির্বাচন যখন হবে, তখন তো তারা এলাকায় থাকবেন। উনারা সংসদীয় এলাকায় নির্বাচনী এলাকায় থাকবেন। কিন্তু কিছু আচরণ ফলো করতে হবে। এই বিষয়টা তো আপেক্ষিক আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবো কি পারবো না। সুতরাং আমাদের চেষ্টা থাকবে এবং আমি আশাকরি।

শেয়ার করতে ক্লিক করুন