জিম্বাবুয়ের কাছে সোহানদের অসহায় আত্মসমর্পণ

63
শেয়ার করতে ক্লিক করুন

টি-টোয়েন্টিতে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের বিপক্ষে ২০০ ঊর্ধ্ব রান করেই বাজিমাত করলো জিম্বাবুয়ে। বাংলাদেশের বিপক্ষে ২০৬ রানের লক্ষ্য দাঁড় করিয়ে রানের জয় পায় স্বাগতিকরা। তারণ্যে গড়া বাংলাদেশ দল নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে রান তুলে। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ রান করেন অধিনায়ক সোহান।

এর আগে ওয়েসলি মাধেভেরে ও সিকান্দার রাজার ব্যাটিং তাণ্ডবে বাংলাদেশের সামনে ২০৬ রানের বিশাল লক্ষ্য দাঁড় করায় জিম্বাবুয়ে। এই দুই জনের ৯১ রানের জুটিতে নির্ধারিত ২০ ওভারে মাত্র ৩ উইকেট হারিয়ে ২০৫ রান করে স্বাগতিকরা। মাধেভেরে ৬৭ ও রাজা রানে ৬৬ অপরাজিত থাকেন।

পাহাড় সমান লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি। ইনিংসের দলকে বিপদে ফেলে সাজঘরে ফিরেছেন ওপেনার মুনিম শাহরিয়ার। দ্বিতীয় ওভারের মাসাকাদজা অফ স্টাম্পের বাইরে টসড আপ ডেলিভারিতে বড় শট খেলতে গিয়েছিলেন এই ওপেনার। তবে নিয়ন্ত্রণ ছিল না তাতে কোনোই। শর্ট থার্ডম্যানে চিভাঙ্গার হাতে ধরা পড়ে ফিরেছেন মুনিম, ৮ বলে ৪ রান করেই।

মুনিমের বিদায়ের পর লিটন দাস ও এনামুল হক বিজয়ের জুটি স্বপ্ন দেখায় জয়ের। কিন্তু ৫৮ রানের বেশি আসেনি এই জুটি থেকে। লিটনের ৩২ বলের রান আউট হওয়ার পর ২৬ রানে রাজার শিকার হয় এনামুল।

স্কোর বোর্ডে আর ২১ রান যুক্ত করতেই বিদায় নেন অলরাউন্ডার আফিফ। জঙওয়ের বলে পুল করতে চেয়েছিলেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। মিড উইকেট অঞ্চলে বল উঠে যায় আকাশে। তালুবন্দি করেন মাসাকাদজা।

অভিষিক্ত অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহাসের সঙ্গে ৪০ রানের দারুণ এক জুটি গড়েন নাজমুল হোসেন শান্ত। আবারও জয়ের স্বপ্ন দেখা শুরু করে বাংলাদেশ। কিন্তু ১৬ তম ওভারে শেষ বলে জংওয়ের শর্ট ডেলিভারিতে পুল করতেগিয়ে ধরা পড়েন শান্ত। ৩ চার ও ১ ছয়ে ২৫ বলে ৩৭ রান করেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।

মোসাদ্দেককে নিয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালান অধিনায়ক সোহান। শেষ ১২ বলে বাংলাদেশের প্রয়োজন হয় ৩২ রানের। তবে ১৮তম ওভারে মোড় ঘুরে যায় ম্যাচের। এই ওভারে মাত্র ৪ রান নিতে পারে বাংলাদেশ, হারায় মোসাদ্দেকের উইকেট। শেষ ওভারে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ২৮ রানের। বাংলাদেশ নিতে পারে ১০ রান।

এতে ১৭ রানে হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় সফরকারীদের। লড়াই করেও ম্যাচ জেতাতে পারলেন না অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান। ২৬ বলে ৪২ রান করে অপরাজিত ছিলেন তিনি।

শনিবার (৩০ জুলাই) হারারে স্পোর্টস ক্লাবে মাঠে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ জিম্বাবুয়ে। আন্তর্জাতিক অধিনায়ক হিসেবে নিজের ক্যারিয়ারে প্রথম টসই হারেন নুরুল হাসান সোহান। টস জিতে আগেই ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন জিম্বাবুয়ের কাপ্তান ক্রেইগ আরভিন।

স্বাগতিকদের শুরুটা ভালো হয়নি মোস্তাফিজের জন্য। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে দলীয় ১৫ রানেই প্রথম উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। মোস্তাফিজকে তুলে মারতে গিয়েছিলেন ওপেনার চাকাভা, তবে আড়াআড়ি খেলতে গিয়ে টাইমিং ঠিকঠাক করতে পারেননি। বল উঠেছে আকাশে, মিডউইকেটে নাজমুল হোসেন ভুল করেননি।

পাওয়ার প্লেতে আর উইকেটের দেখা পায়নি সফরকারী বোলাররা। জিম্বাবুয়ের ৬ ওভারে উঠে ৪৩ রান। তবে সপ্তম ওভারের প্রথম বলেই স্বাগতিক অধিনায়ককে ফেরান মোসাদ্দেক। মোসাদ্দেকের শর্ট লেংথের বল সরাসরি বোল্ড করে ক্রেইগ আরভিনকে। ২১ রানে ফিরেন আরভিন।

তৃতীয় উইকেটের জুটি জিম্বাবুয়ের ভিত গড়ে দেয়। শন উইলিয়ামসের সঙ্গে ওয়েসলি মাধেভেরে গড়ের ৫৬ রানের জুটি। ১৩তম ওভারে দ্বিতীয় বলে ব্রেকথ্রু এনে দেন মোস্তাফিজ। ফিজের বল ব্যাক অব দ্য হ্যান্ডের স্লোয়ারে এক্সট্রা কাভার দিয়ে খেলার চেষ্টা করেছিলেন উইলিয়ামস, তবে ইনসাইড-এজে বোল্ড হয়েছেন ১৯ বলে ৩৩ রান করা এই ব্যটার।

এরপরই মাধেভেরের সঙ্গে জুটি বেধে শুরু হয় সিকান্দার রাজার তাণ্ডব। ২৬ বলে ৭ চার ও ৪ ছক্কার ঝড় তুলে ৬৫ রানে অপরাজিত থাকেন রাজা। রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়ার আগে ৪৬ বলে ৯ চারে ৬৭ করেন মাধেভেরে।

বাংলাদেশের পক্ষে ৪ ওভারে ৫০ রান দিয়ে ২ উইকেট শিকার করেন মোস্তাফিজ। ৩ ওভারে ২১ রান দিয়ে অপর উইকেটটি মোসাদ্দেকের শিকার। এছাড়া তাসকিন ৪ ওভারে ৪২ ও শরীফুল ৪ ওভারে ৪৫ এবং নাসুম ৪ ওভারে ৩৮ রান দেন।

শেয়ার করতে ক্লিক করুন