হাটহাজারিতে তুহিন হত্যা: মুন্নার মৃত্যুদণ্ডের রায়

29
শেয়ার করতে ক্লিক করুন

আব্দুর রহিম আজাদ, চট্টগ্রাম উত্তর প্রতিনিধি: হাটহাজারীতে এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ করে খুনের মামলার এক আসামির মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত। অন্য দুই আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে। বুধবার (১৯ অক্টোবর) চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক হালিম উল্লাহ এই রায় দেন।

দণ্ডিত মুহাম্মদ শাহ নেওয়াজ ওরফে মুন্না (২৫) হাটহাজারী পৌরসভার শাহ মিরাজের ছেলে। রায় ঘোষণার পর আসামি মুন্নাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের পিপি মো. আইয়ুব খান বলেন, “আসামির বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় একটি ধারায় ফাঁসি ও আরেকটি ধারায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। লাশ গুমের অভিযোগে অন্য একটি ধারায় তার সাত বছরের কারাদণ্ড হয়েছে।”

এই মামলার অন্য দুই আসামি শাহ নেওয়াজ মুন্নার বাবা শাহ মিরাজ ও মা নিগার সুলতানার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় তাদের বেকসুর খালাস দেওয়া হয় বলে জানান পিপি মো. আইয়ুব খান।

আদালতের নথি থেকে জানা যায়, ২০১৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর নিখোঁজ হয় হাটহাজারী গার্লস হাইস্কুল এন্ড কলেজের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী তাসনিম সুলতানা ওরফে তুহিন (১৩)।

দুইদিন পর হাটহাজারী পৌরসভার ফটিকা গ্রামের শাহজালাল পাড়ার সালাম ম্যানশনের চতুর্থ তলার ফ্ল্যাট থেকে তুহিনের গলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

তুহিন ওই ভবনের মালিক হাটহাজারী উপজেলার গড়দুয়ারা ইউনিয়নের আবু তৈয়বের মেয়ে। ঘটনার সময় তুহিনের বাবা-মা হজে ছিলেন।

ওই ভবনের চতুর্থ তলার ভাড়া থাকত আসামি মুন্নার পরিবার। তুহিনকে জোর করে বাসায় নিয়ে ধর্ষণ করে মুন্না। এরপর তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে বাসার সোফার নীচে বস্তাবন্দি করে মৃতদেহ লুকিয়ে রাখে আসামি।

তুহিনকে খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান পায়নি তার স্বজনরা। পরে মুন্নার বাসা থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ সেখান থেকে লাশ উদ্ধার করে।

এই ঘটনায় নিহতের বড়ভাই আকিব জাবেদ হাটহাজারী থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে তিনজনকে আসামি করে ২০১৯ সালের ১৬ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ওই বছরের ৩ নভেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন হয়। ২০২০ সালে মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর হয়।

১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য শেষে আদালত বুধবার এ রায় দেওয়া হল।

শেয়ার করতে ক্লিক করুন