এলএনজিভিত্তিক আরও ৪ বিদ্যুৎকেন্দ্র, গ্যাস সংকটে চলবে কীভাবে

25
শেয়ার করতে ক্লিক করুন

প্রস্তুত হচ্ছে এলএনজিভিত্তিক আরও চারটি বিদ্যুৎকেন্দ্র। উৎপাদন ক্ষমতা আড়াই হাজার মেগাওয়াটের ওপরে। অথচ ডলার সংকটে এলএনজি আমদানি নেমেছে এক তৃতীয়াংশে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যৌক্তিকতা বিচার না করে অনুমোদন দেয়া কেন্দ্রগুলো নতুন করে বোঝা বাড়াবে সরকারের।

নারায়ণগঞ্জের মেঘনা নদীর পাড়ে মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে একের পর এক বিদ্যুৎকেন্দ্র। সামিট গ্রুপের তত্ত্বাবধানে ৫৯০ মেগাওয়াট ক্ষমতার এই কেন্দ্রের কাজ এগিয়েছে ৭১ শতাংশ। পিডিবির হিসাবে, আগামী ৩১ মার্চ বাণিজ্যিক উৎপাদনে আসবে আমদানি করা এলএনজিভিত্তিক এই প্রকল্প।

সামিট দ্বিতীয় ইউনিটের গা ঘেঁষে গড়ে উঠছে রিলায়েন্স পাওয়ার কোম্পানির ৭১৮ মেগাওয়াট ক্ষমতার আরেক বিদ্যুৎকেন্দ্র। সেটিরও কাজ শেষ ৬৫ শতাংশ; চালুও হবে একই সময়ে। আর এই কেন্দ্রের জ্বালানিও আমদানি করা এলএনজি।
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, কয়েক মাস ধরে গ্যাস সঙ্কটে যখন প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতা বসে রয়েছে। সেখানে নতুন কেন্দ্রগুলো চলবে কীভাবে?

ডিজি পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ হোসাইন বলেন, এলএনজির আন্তর্জাতিক বাজার এই পর্যায়ে যাবে তা অনুমান করা যায়নি। আপাতত সব স্বাভাবিক। তবে কিছু আশঙ্কা আছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে হয়তো সব কেটে যাবে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ বদরূল ইমাম বলেন, এটা নীতিগত ভুল সিদ্ধান্ত। এলএনজি দিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্র চালাতে যে খরচ হবে, তা নিয়ে কী সরকার কখনও ভেবে দেখেছে। এ নিয়ে কোনো ভিত্তিমূলক কাজ করেনি তারা।

পিডিবির তথ্য বলছে, এই মুহূর্তে এলএনজিভিত্তিক ৪টি কেন্দ্রের কাজ শেষের পথে। সামিট, রিলায়েন্স ছাড়াও তালিকায় ইউনিক এবং খুলনার রূপসা রয়েছে। যেগুলোর মোট উৎপাদন ক্ষমতা আড়াই হাজার মেগাওয়াটের ওপরে।

সেগুলো পুরোদমে চালাতে দৈনিক গ্যাস লাগবে অন্তত ৫০ কোটি ঘনফুট হারে। কথা ছিল, নতুন এলএনজি এনে জোগান হবে জ্বালানির। কিন্তু চড়া দামে এক তৃতীয়াংশে নেমে এসেছে আগের আমদানি। তাই শেষ পর্যন্ত এই কেন্দ্রগুলো বাড়তি বোঝা তৈরি করে কি না-থাকছে সেই ভাবনা।

বদরূল ইমাম বলেন, এখন এলএনজি আমদানি করা যাচ্ছে না। দেশে গ্যাসেরও সংকট আছে। ফলে বর্তমানে যে সংকট আছে তা আরও বাড়বে।

মোহাম্মদ হোসাইন বলেন, অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে যাতে কোনো সমস্যা না হয়, সেজন্য সব সংশোধন করে প্রকল্প হাতে নেয়া হবে।

এই কেন্দ্রগুলোর অনুমোদন দেয়া হয় ২০১৯ সালের মার্চ থেকে নভেম্বরের মধ্যে। সেসময় খোলাবাজারে প্রতি ইউনিট এলএনজির দর ছিল ৫ ডলার। যা এখন ৩০-এর ওপরে।

শেয়ার করতে ক্লিক করুন