সব আসনেই একাধিক প্রার্থী, এবার বিনা ভোটে জয়ের সুযোগ নেই

76
শেয়ার করতে ক্লিক করুন

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:
বিএনপি-জামায়াত ও সমমনাদের বর্জনের মধ্যে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের চাওয়া ছিল কোনো আসনে যেন একক প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকে। যাচাই বাছাইয়ে প্রতি তিন জনের মধ্যে প্রায় একজনের প্রার্থিতা বাতিল হয়ে গেলেও এমন কোনো আসন নেই যেখানে বৈধ প্রার্থী একজন।

শেরপুর-২ আসনে সবচেয়ে কম দুই জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। বাতিল ঘোষিত হয়েছে আরও দুই জনের নাম।

২০টি আসনে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা তিন জন করে। সবচেয়ে বেশি ১৩ জন করে বৈধ প্রার্থী আছেন চারটি আসনে। ১৩ জন প্রার্থী আছেন, এমন একটি আসনে আবার সর্বোচ্চ ১২ জনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।

আগামী ৭ জানুয়ারির ভোট সামনে রেখে মনোনয়ন যাচাইবাছাইয়ের এই প্রক্রিয়া চলেছে ১ থেকে ৪ ডিসেম্বর।

জমা পড়া ২ হাজার ৭১৬টি মনোনয়নের মধ্যে বাদ পড়েছেন ৭৩১ জন। বৈধ ঘোষিত হয়েছে ১ হাজার ৯৮৫টি মনোনয়নপত্র। তবে এদের মধ্যে তিন জনের দুটি করে মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা হয়েছে।
বাতিল হওয়া প্রার্থীদের একটি বড় অংশই স্বতন্ত্র, তবে সেই সংখ্যাটি সুনির্দিষ্ট করে জানাতে পারেননি নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমাব দেবনাথ ও আইন শাখার যুগ্ম সচিব মাহবুবার রহমান সরকার।

কী পরিমাণ স্বতন্ত্র প্রার্থী বাদ পড়েছেন, তা বোঝা যায় ঢাকার ২০টি আসন দেখেই। এ আসনগুলোতে মোট ৪৩ জন স্বতন্ত্র হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে বাদ পড়ে গেছেন ৩০ জনেই। এদের বেশিরভাগই ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনের প্রমাণ হাজির করতে পারেননি।

ঢাকায় বাতিল হয়েছে মোট ৭৮টি মনোনয়নপত্র। ঢাকার তুলনায় বাইরে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সংখ্যাটি কিছুটা বেশি ছিল। এর মধ্যে সিরাজগঞ্জের তিনটি আসনে সব স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়ে গেছে।

যারা বাদ গেছেন, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তাদের নির্বাচন কমিশনে আপিল করার সুযোগ আছে। এটা চলবে ৫ থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত। সেখানেও রায় পক্ষে না পেলে আদালতে যাওয়ার সুযোগ আছে।

যাদের মনোনয়ন বৈধ ঘোষিত হয়েছে, চাইলে তাদের বিরুদ্ধেও আপিলের সুযোগ আছে। আবার ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগ আছে। ফলে সেদিনই চূড়ান্তভাবে জানা যাবে, কারা থাকছেন ভোটের লড়াইয়ে।

অবশ্য উচ্চ আদালত প্রচারের মধ্যেও কারও প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করতে পারে। ভোটের আগে আগেও আদালতের আদেশে প্রার্থী হয়ে ভোটে জয়ের রেকর্ড আছে।

গত ১৫ নভেম্বর প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল যে তফসিল ঘোষণা করেন, তাতে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে মনোনয়নপত্র জমার সুযোগ ছিল।

তবে দশম সংসদ নির্বাচনের মত এবারও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে বিএনপি-জামায়াত ও সমমনারা আন্দোলনে আছে। এ কারণে নির্বাচনে কতগুলো দল আসে, তা নিয়ে প্রশ্ন ছিল।

২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচনে ভোটে এসেছিল ১২টি রাজনৈতিক দল। এবার দলের সংখ্যা অনেক বেশি, সব মিলিয়ে ২৯টি।

নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার বেদনাথ জানান, দলীয় প্রার্থীদের বাদ পড়ার একটি বড় কারণ ছিল খেলাপি ঋণ। এছাড়া বিভিন্ন সেবার বিল বকেয়া থাকা, প্রস্তাবক-সমর্থক সঠিক না হওয়া, হলফনামায় অসত্য তথ্য বা অসঙ্গতি এবং দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিলেও সভাপতির প্রত্যয়নপত্র না থাকা। দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকার তথ্যেও বাতিল হয়েছে আওয়ামী লীগের একজন প্রার্থীর।

একাদশের সংসদ নির্বাচনে তিন সহস্রাধিক মনোনয়ন জমা পড়েছিল। সেবারও বাছাইয়ে ৭৮৬ জনের বাদ যায়, বৈধ হয় ২২৭৯টি মনোনয়নপত্র। ২০১৪ সালে বিএনপি-জামায়াতের বর্জনের মধ্যে ১৫৩টি আসনে একক প্রার্থী থাকায় ভোটের প্রয়োজন পড়েনি। বিএনপি এখনও সেই নির্বাচনের জন্য কথা শোনায় আওয়ামী লীগকে।

ঢাকার আসনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাই হয় সোমবার
আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে লড়াইয়ের আমেজে ভাটা

ঝালকাঠি-১ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দিয়েছিল তিন বারের সংসদ সদস্য বজলুল হক হারুনকে। শেষ সময়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শাহজাহান ওমরকে ভাগিয়ে এনে মনোনয়ন তুলে দেওয়া হয় তার হাতে।

এ আসনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য মনিরুজ্জামান মনির স্বতন্ত্র পরিচয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। সেখানে অন্য প্রার্থী থাকলেও ধারণা করা হয়েছিল, দলের ভেতরেই জমবে লড়াই। কিন্তু বাতিল হয়ে গেছে মনিরের মনোনয়ন।

কিশোরগঞ্জ-১ আসনে নৌকার প্রার্থী মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশ সরকারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামের মেয়ে সৈয়দা জাকিয়া নুর লিপির পাশাপাশি আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে তার আপন ভাই ছেলে সৈয়দ শাফায়েতুল ইসলাম, সাবেক সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিনের ছেলে শরীফ আহাম্মদ সাদীর স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন। সেখানেও লড়াই জমবে বলে ধারণা করা হয়েছিল।

তবে শাফায়েতুল ইসলাম ও শরীফ সাদীর মনোনয়ন বাতিলে নির্বাচনি এলাকায় ভোটের আমেজ থাকবে কি না, তা নিয়ে আছে সংশয়। সেখানে জাতীয় পার্টির একজন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা হলেও দলটির সামর্থ্য নিয়ে আছে প্রশ্ন।

বিএনপির বর্জনের মুখে এবার নির্বাচনি আমেজের প্রধান কারণই ছিল আওয়ামী লীগ নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।

ক্ষমতাসীন দলের একটি সিদ্ধান্তেই মূলত স্বতন্ত্র প্রার্থীর সংখ্যা রেকর্ড ৭৪৭ জনে গিয়ে দাঁড়ায়।

 

শেয়ার করতে ক্লিক করুন