সাংবাদিক এস এম আববাস নিরাপত্তীনতায়, থানায় ডিজি করতে পারছেন না

31
S M Abbas
শেয়ার করতে ক্লিক করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশের জনপ্রিয় অনলাইন গণমাধ্যম বাংলা টিবিউন এর বিশেষ প্রতিনিধি এস এম আববাস নিরাপত্তহীনায় রয়েছেন। একাধিকবার মব সহিংসতা থেকে রক্ষা পেলেও চলাচল করছেন গোপনীয় রক্ষা করে। থানায় জিডি করতে গিয়ে ডিজি করতে পারছেন না।

গত সাত দিন ধরে কর্মক্ষেত্র সচিবালয় বা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের বিট কাভার করতে না গিয়ে শুধু ঘরে বসে এবং বিকালে গোপনীয়তা রক্ষা করে অফিস করছেন। শুধু সাংবাদিক এস এম আব্বাস একা নন, দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে কাজ করা মাঠপর্যায়ের রিপোর্টাররা নানা হুমকি-ধমকি পাচ্ছেন। ইতোমধ্যে অনেক সাংবাদিককে হত্যা মামলায় মিথ্যা অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর রাজধানী ঢাকার ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িতে তৌহিদি জনতার নামে উগ্র জঙ্গিগোষ্ঠী আগুন দেয়। এই ছবি সেদিন ফেসবুকে দেওয়ার পর থেকে তাকে নানাভাবে হুমকি-ধমকি দেওয়া হতে থাকে। বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ তাকে সাবধানে থাকার পরামর্শ দেয়।

জানতে চাইলে এস এম আব্বাস বলেন, আমি এরই মধ্যে কয়েক দফায় হুমকি পেয়েছি। ফেসবুক মেসেঞ্জারে হুমকি আসা শুরু হলে আমি তাদের একের পর এক ব্লক করি। একপর্যায়ে আমার চলাচল সীমিত করি। ৬ আগস্ট থানায় গিয়ে কোনও পুলিশের দেখা পাইনি। কারণ, তখন দেশের বেশিরভাগ থানা জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে, অস্ত্র লুটপাট করা হয়েছে। থানায় জিডি (সাধারণ ডায়েরি) নেবে—এমন কেউ নেই। পরদিন ৮ আগস্ট গেলে সিভিল ডেস্কে থাকা একজন ব্যক্তি জানালেন, কাগজপত্র নেই, পুলিশও নেই। কোনও পুলিশ থানায় এলেও মামলা বা জিডি নিতে পারবেন না। এই অবস্থায় একটানা ঘরে বসে নিউজ করছি। আমার অফিস আমাকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা দিয়েছে।

জানা গেছে, জুলাই আন্দোলনে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বিগত আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িতে তৌহিদি জনতার অগ্নিসংযোগের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করার পর থেকে একাধিকবার হুমকির শিকার হয়েছেন। রাজধানী ঢাকার ধানমন্ডি ৩২ নম্বর রোডের পাশে অফিসে যাওয়ার সময় গত ৬ আগস্ট তাকে তৌহিদি জনতা আটক করার চেষ্টা করে। পরদিন ধানমন্ডি ২৭ নম্বর দিয়ে অফিস থেকে বাসায় ফেরার পথে চারজন যুবক হুমকি দিয়ে পথ রোধ করে নানা প্রশ্ন করে এবং আওয়ামী লীগের দোসর বলে উল্লেখ করে গালাগালি করে। স্থানীয় লোকজন জড়ো হওয়ার পর সেখান থেকে পালাতে সক্ষম হন।

এ বিষয়ে খোঁজখবর নিতে মোহাম্মদপুর থানায় গিয়ে দেখা গেছে, পুরো থানা তছনছ করেছে তৌহিদি জনতা ও জুলাই আন্দোলনের পক্ষের একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ। এর সঙ্গে দু-একটি দলের রাজনৈতিক কর্মীরাও ছিলেন বলে উপস্থিত লোকজন জানান। দেলোয়ার নামের এক রিকশাচালক জানান, থানা থেকে সব অস্ত্র নিয়ে গেছে। থানায় আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে।

উল্লেখ্য, গত জুলাই মাসে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। পরে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, সংঘর্ষ ও প্রাণহানির ঘটনায় আন্দোলন আরও বেগবান হয়। একপর্যায়ে কোটা সংস্কারের দাবি ছাড়িয়ে আন্দোলনটি সরকার পতনের এক দফা দাবিতে রূপ নেয়। ধারাবাহিক বিক্ষোভ কর্মসূচি ও আন্দোলনের মধ্য দিয়ে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সামরিক সহায়তায় ভারতে আশ্রয় নেন। এরপর থেকে সাংবাদিকদের ওপর নানা রকম নিপীড়ন চলতে থাকে।

/এসআই/০৮/০৮/২০২৪

শেয়ার করতে ক্লিক করুন