নিজস্ব প্রতিবেদক: এসকেএফ (ESKAYEF) ফার্মাসিটিক্যালসের এর চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সিনিয়র এরিয়া ম্যানেজার মো. জাকির হোসেন অবশেষে চাকরি থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন। মৌলবাদী সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত এবং পরে হুমকির ঘটনার পর গত ৫ জানুয়ারি চাকরি থেকে অব্যাহতি নেন।
চাকরি ছাড়ার কারণ জানতে চাইলে মো. জাকির হোসেন বলেন, আমি রাজধানী ঢাকার মগবাজার এলাকার সিনিয়র এরিয়া ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতাম। তখন রাজনীতি না করলেও বিগত সময় আমি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম। ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ আদাবর থানার কার্যকরী সদস্য ছিলাম। এ বিষয়টি জানাজানি হলে চাকরি স্থলে আমার সঙ্গে অনেকেই শত্রতা শুরু করেন। কেউ না কেউ বিএনপির সন্ত্রাসী ও মৌলবাদী গ্রুপকে আমার দলীয় পরিচয় দিয়ে হয়রানী শুরু করে। আমি চাকরি না ছাড়লে আমাকে ২০২৩ সালের ১৪ নভেম্বর আমার ওপর হামলা চালায় বিএনপি ও মৌলবাদী সন্ত্রাসীরা। রাজধানীর খামারবাড়ি এলাকায় অফিস যাওয়ার পথে আমাকে মোটর সাইকেল থেকে তারা নামিয়ে পিটিয়ে আমার একটি হাত ভেঙ্গে দেয়। এরপর আমি ২০২৪ সালের ৫ মে ঢাকার বাইরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় সিনিয়র এরিয়া ম্যানেজার হিসেবে পোস্টিং নেই। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসায় আমার বিরুদ্ধে বিএনপির সন্ত্রাসী ও মৌলবাদী গ্রুপের সদস্যরা আমাকে খুঁজে বের করে। চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমার ওপর মব লেলিয়ে দেয়। আমি এলাকাবাসীর সহায়তায় মবের হাত থেকে বাঁচি। এরপর আমাকে ফোনে হুমকি দিতে থাকে।
কেনও আপানাকে সন্ত্রাসীরা বারবার হুমকি দিচ্ছে জানতে চাইলে জাকির হোসেন বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আওয়ামী লীগ পরিচয় থাকলেই তাদের ওপর মব লেলিয়ে দেওয়া হচ্ছে। অনেককে তারা মেরে ফেলেছে। তাই আমি নিরাপত্তার স্বার্থে চাকরি ছেড়ে দিয়ে আত্মগোপনে রয়েছি।
উল্লেখ্য, এসকেএফ ফার্মিাটিক্যালস এর সিনয়ির এরিয়া ম্যানেজার মো. জাকির হোসেন ঢাকা মহানগররীর আদাবর থানা আওয়ামী লীগের কার্যকরী সদস্য ছিলেন। ওই কমিটি এখনও বিলুপ্ত হয়নি। ২০২৪ সালের ১৬ মে সকালে তাকে দ্বিতীয়বার প্রাণনাশের হুমকি দেয় সন্ত্রাসীরা। এর আগে ২০২৩ সালের ১৪ নভেম্বর রাজধানীর খামারবাড়ি এলাকায় সাত/আট জনের একটি দল মো. জাকির হোসেনকে পিটিয়ে আহত করে। মোটরসাইকেল থেকে নামিয়ে পিটিয়ে তার ডান হাত ভেঙ্গে দেওয়া হয়।
এসকেএফ ফার্মাসিটিক্যালস -এর সিনিয়র এরয়িা ম্যানেজার মো. জাকির আরও জানান, ২০২৩ সালে যখন তাকে পিটিয়ে আহত করে অফিস তাকে সহায়তা করেনি। অফিসিয়াল জটিলতায় থানায় মামলাও করা সম্ভব হয়নি। সড়ক দুর্ঘটনা উল্লেখ করে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে তাকে।
জাকির হোসেন বলেন, ইনস্যুন্সের সংক্রান্ত অফিসিয়াল জটিলতা জটিলতা ও নিরাপত্তার স্বার্থে সডক দুর্ঘটনা বলে আমি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছি। ছুটির পর চাকরিতে যোগ দিলে মৌলবাদী একটি গোষ্ঠীর সাত-থেকে আট জন আমাকে সরাসরি করে হুমকি দিয়েছে, যাতে আমি চাকরি ছেড়ে দেই।
/এসএ/০৮/০১/২০২৫





