১,৮৪২ টি মনোনয়নপত্র বৈধ, ৭২৩টি বাতিল

5
শেয়ার করতে ক্লিক করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক:

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০টি সংসদীয় আসনে ১ হাজার ৮৪২টি মনোনয়নপত্র বৈধ এবং ৭২৩টি মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেছিলেন ৩ হাজার ৪০৬ জন প্রার্থী, যার বিপরীতে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন ২ হাজার ৫৬৮ জন প্রার্থী। নির্বাচনে ৫১টি রাজনৈতিক দলের ২ হাজার ৯০ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন ৪৭৮ জন। এ হিসাবে দাখিল করা মনোনয়নপত্রের প্রায় ২৮ শতাংশই বাতিল হয়েছে। বাতিলে এগিয়ে আছে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর সংগ্রহ সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে দেখা গেছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলের অনেক হেভিওয়েট নেতাদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।

বড় দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর কারণে তার দাখিল করা দিনাজপুর-৩, বগুড়া-৭ ও ফেনী-১ আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই না করেই কার্যক্রম সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, হলফনামায় তথ্য গোপন, ঋণখেলাপি থাকা, দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত জটিলতা, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে সমর্থনকারী ভোটারের তথ্যে গড়মিলসহ বিভিন্ন অসংগতির কারণে এসব মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। প্রার্থিতা বাতিলে রিটার্নিং কর্মকর্তা বা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আজ সোমবার থেকে আপিল শুরু হচ্ছে।

আগামী ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনে আপিল করা যাবে। এসব আপিল নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। ২১ জানুয়ারি রিটার্নিং কর্মকর্তারা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ দেবেন। নির্বাচনি প্রচার শুরু হবে ২২ জানুয়ারি এবং চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ইসির ১০টি নির্বাচনি অঞ্চলের মধ্যে রংপুর অঞ্চলের ৩৩টি সংসদীয় আসনে ২৭৯টি মনোনয়ন দাখিল হয়। এর মধ্যে ২১৯টি বৈধ ও ৫৯টি বাতিল করা হয়েছে। রাজশাহী অঞ্চলের ৩৯টি আসনে দাখিল করা ২৬০টির মধ্যে বৈধ ১৮৫টি ও বাতিল ৭৪টি। খুলনা অঞ্চলের ৩৬টি আসনে ২৭৫টির মধ্যে বৈধ ১৯৬টি ও বাতিল ৭৯টি। বরিশাল অঞ্চলের ২০টি আসনে ১৬২টির মধ্যে বৈধ ১৩১টি ও বাতিল ৩১টি।

ময়মনসিংহ অঞ্চলের ৩৭টি আসনে ৩১১টির মধ্যে বৈধ ১৯৯টি ও বাতিল ১১২টি। ঢাকা অঞ্চলের ৪০টি আসনে ৪৪২টির মধ্যে বৈধ ৩০৯টি ও বাতিল ১৩৩টি। ফরিদপুর অঞ্চলের ১৪টি আসনে ১৪২টির মধ্যে বৈধ ৯৬টি ও বাতিল ৪৬টি। সিলেট অঞ্চলের ১৮টি আসনে ১৪৬টির মধ্যে বৈধ ১১০টি ও বাতিল ৩৬টি। কুমিল্লা অঞ্চলের ৩৪টি আসনে ৩৫৭টির মধ্যে বৈধ ২৫৯টি ও বাতিল ৯৭টি। চট্টগ্রাম অঞ্চলের ২২টি আসনে ১৯৪টির মধ্যে বৈধ ১৩৮টি ও বাতিল ৫৬টি মনোনয়ন রয়েছে।

তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, দুজন করে প্রার্থীর বৈধ প্রার্থী রয়েছেন ৯টি আসনে। নীলফামারী-৩, বগুড়া-৬, রাজশাহী-৪ ও ৫, পিরোজপুর-১, শেরপুর-২, নেত্রকোনা-৫, ঢাকা-২, চট্টগ্রাম-৩। তিনজন করে বৈধ প্রার্থী রয়েছে ২২টি আসনে। আসনগুলো হচ্ছে ঠাকুরগাঁও-১, জয়পুরহাট-২, বগুড়া-২ ও ৭, রাজশাহী-১, ৩ ও ৬, সিরাজগঞ্জ-৩, মেহেরপুর-১ ও ২, যশোর-৬, মাগুরা-২, সাতক্ষীরা-৪, টাঙ্গাইল-৭, জামালপুর-১ ও ২, ময়মনসিংহ-৭, মানিকগঞ্জ-২, শরীয়তপুর-৩, হবিগঞ্জ-২, চট্টগ্রাম-১৫ ও কক্সবাজার-১। এ ছাড়া ১০ জন বা তার বেশি বৈধ প্রার্থী রয়েছেন ২০টি আসনে। আসনগুলো হচ্ছে নাটোর-১, সিরাজগঞ্জ-৬, খুলনা-১, ঢাকা-৫, ৭, ৯, ১২, ১৬, ১৭, গাজীপুর-২, নারায়ণগঞ্জ-৩ ও ৪, গোপালগঞ্জ-৩, মাদারীপুর-১, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ ও ২, ৫ ও ৬, নোয়াখালী-৫ ও ৬।

বড় দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে। ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া বগুড়া-৬ (সদর) আসনে তারেক রহমানের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। ঢাকা-১৫ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির মো. শফিকুর রহমানের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই আসনে বিএনপির প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে।

ঢাকা-১১ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনোনীত ১২-দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে ঢাকা-১৩ আসনের ১১ জন প্রার্থীর মধ্যে বিএনপির প্রার্থী ববি হাজ্জাজ ও খেলাফত মজলিসের মামুনুল হকসহ ছয়জনের মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকির মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গার দুটি সংসদীয় আসনের ১১ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। ভোলা-১ সদর আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলহাজ গোলাম নবী আলমগীর এবং বিজেপির আন্দালিভ রহমান পার্থসহ সাতজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের সভাপতি ও জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। দলীয় মনোনয়নপত্র স্বাক্ষরের সঙ্গে নির্বাচন কমিশন থেকে পাঠানো দলীয় মনোনয়নপত্রের স্বাক্ষর মিল না থাকায় চট্টগ্রাম-৫ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী আনিসুল ইসলাম মাহমুদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। গতকাল সকালে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রমের সময় এ সিদ্ধান্ত দেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন। বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

শুক্রবার বিকালে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান এ ঘোষণা দেন। গতকাল ঢাকা-১৮ আসনে মাহমুদুর রহমান মান্নার মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষিত হয়েছে। কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে বাতিল করা হয়েছে।

ঋণখেলাপি হওয়ায় ঢাকা-২ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত আবদুল হকের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং এনসিপির সাবেক নেত্রী তাসনিম জারার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল মনোনয়ন যাচাই-বাচাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা জারার মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করেন। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল ক্বাফীর মনোনয়ন বাতিল করেছেন কুমিল্লা জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তা। তিনি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৫ আসন থেকে দলের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ এবং দাখিল করেছিলেন।

এ ছাড়া ঢাকা-১৫ আসনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) আহাম্মদ সাজেদুল হক রুবেলের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর আমির মো. শফিকুর রহমানের মনোনয়নপত্র ও বিএনপির শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া বিএনপির অন্তত ৫০ জন বিদ্রোহী প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নিজ নিজ নির্বাচনি এলাকার ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরে গরমিল থাকায় এসব মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে, যা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য বাধ্যতামূলক।

শেয়ার করতে ক্লিক করুন