করোনার ওষুধ: পাঁচ দিনে রোগীকে সেবন করতে হবে ৪০টি

716
শেয়ার করতে ক্লিক করুন

প্রাণঘাতী করোনা চিকিৎসার নতুন অস্ত্র হিসেবে বাজারে আসতে যাওয়া অ্যান্টিভাইরাল ক্যাপসুলের পূর্ণ কোর্স ১০ মার্কিন ডলারে কিনতে যাচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এ সংক্রান্ত একটি খসড়া প্রস্তাবের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স মঙ্গলবার (১৯ অক্টোবর) এ তথ্য জানিয়েছে।

মলনুপিরাভির নামের ক্যাপসুলটির উন্নয়ন করছে যুক্তরাষ্ট্রের ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি মার্ক। একে করোনা মহামারি মোকাবিলায় ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে, বিশেষ করে যারা টিকা পেতে সমর্থ হয়নি তাদের বেলায়। ওষুধটির জরুরি ব্যবহারের জন্য এখনও ওষুধ প্রশাসনের অনুমোদন পায়নি মার্ক। অনুমোদন পেলে এটি হবে করোনার সংক্রমণ চিকিৎসার প্রথম ক্যাপসুল। রোগীকে হাসপাতালে না নিয়েই করোনা চিকিৎসায় মলনুপিরাভির ব্যবহার করা যাবে। রোগীকে দিনে দুবার ২০০ মিলিগ্রামের চারটি ক্যাপসুল সেবন করতে হবে। মোট পাঁচ দিনে রোগীকে সেবন করতে হবে ৪০টি ক্যাপসুল।

নথিতে দেখা গেছে, এক্সেস টু কোভিড-১৯ টুলস অ্যাক্সিলেরটর (এসিটি-এ) নামের একটি প্রকল্পের আওতায় দরিদ্র দেশগুলোর জন্য মলনুপিরাভির কিনবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। আগামী বছরের সেপ্টেম্বর নাগাদ এই প্রকল্পের আওতায় দরিদ্র দেশগুলোর জন্য ১০০ কোটি করোনা শনাক্তকরণ সরঞ্জাম এবং ১২ কোটি ডোজ ওষুধ কেনার প্রক্রিয়া চলছে।

করোনার টিকা সংগ্রহের দৌঁড়ে ধনী দেশগুলোর কাছে হেরে যাওয়ার পর তুলনামুলক কম দামে ওষুধ সংগ্রহ ও দরিদ্র দেশগুলোতে সরবরাহে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কতোটা মরিয়া হয়ে পড়েছে এসিটি-এ প্রকল্প তারই প্রতিচ্ছবি।

এসিটি-এ’র এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ১৩ অক্টোবর নথি প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে এটি এখনও খসড়া হিসেবে রয়ে গেছে। চূড়ান্ত হওয়ার পর এটি চলতি মাসের শেষ নাগাদ রোমে জি-২০ সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী বিশ্বনেতাদের কাছে পাঠানো হবে।

নথিতে স্পষ্টভাবে মলনুপিরাভির ক্যাপসুলের কথা বলা হয়নি। তবে সেদিকেই ইঙ্গিত করে বলা হয়েছে, ‘হালকা ও মাঝারি সংক্রমণে আক্রান্ত রোগীদের মুখে খাওয়ার অ্যান্টিভাইরালের’ পূর্ণ কোর্সের দাম ১০ ডলার করে দেওয়া যেতে পারে।

রয়টার্স জানিয়েছে, করোনার চিকিৎসায় মুখ দিয়ে খাওয়ার অন্যান্য ওষুধের উন্নয়ন চলছে। তবে মলনুপিরাভির হচ্ছে একমাত্র ওষুধ যেটি বিস্তৃত ট্রায়ালে ইতিবাচক ফল দেখিয়েছে। তাই ওষুধটি কেনার ব্যাপারে মার্ক অ্যান্ড কোং এবং জেনেরিক উৎপাদনকারীদের সঙ্গে কথা বলেছে এসিটি-এ।

শেয়ার করতে ক্লিক করুন