১৯৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল: কর্নেল অলি

6
কর্নেল অলি
শেয়ার করতে ক্লিক করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম বলেন, ৬ মাস আগ পর্যন্ত ধৈর্য ধরে এবং ভয়ে মানুষ চুপচাপ ঘরে বসে ছিল। কিন্তু বিগত দুই মাস যাবৎ প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করেছে। অমানবিক কষ্ট সহ্য করে, ভয়কে জয় করে, নিজের পয়সা খরচ করে, জীবনের মায়া ত্যাগ করে, বিএনপির জনসভায় অংশগ্রহণ করে যাচ্ছে, যা অকল্পনীয়।

বৃহস্পতিবার (২৪ নভেম্বর) রাজধানীর এফডিসি সংলগ্ন এলডিপির পার্টি অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ১৯৯৬ সালে যখন আওয়ামী লীগ রাস্তা অবরোধ করেছিল। বিএনপিকে টেনে-হিঁচড়ে ক্ষমতা থেকে নামানো চেষ্টা করা হয়েছিল। ওই সময়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত, তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী আ খ ম জাহাঙ্গীর এবং প্রধানমন্ত্রীর চাচা হাফিজুর রহমান আমার কাছে এসেছিলেন।

কর্নেল অলি বলেন, তারা আমার কাছে প্রস্তাব নিয়ে এসেছিল আওয়ামী লীগের ১৪৩ জন এবং বিএনপির ৪০ জনসহ মোট ১৮৩ জনকে নিয়ে সংসদে পার্লামেন্টারি ক্যু হবে এবং আমাকে প্রধানমন্ত্রী করা হবে। আমার পছন্দ অনুযায়ী মন্ত্রিপরিষদ গঠন করে তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন দিতে।

তিনি বলেন, প্রথম দুই দিন আমি রাজি ছিলাম। কারণ এটা একটা লোভনীয় প্রস্তাব ছিল। তৃতীয় দিন আমি জায়নামাজে গিয়ে আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করলাম। ইয়া রাব্বুল আলামিন আমার মতো যুবককে এ ধরনের লোভনীয় প্রস্তাব দিয়েছে। এ প্রস্তাব আমার জন্য কতটুকু ভালো হবে। দেশের জন্য কতটুকু ভালো হবে। আল্লাহ পক্ষ থেকে আমার কাছে জবাব আসল, কোনো অবস্থাতেই বেগম জিয়ার সঙ্গে বেইমানি করা ঠিক হবে না।

তিনি আরও বলেন, ডলারের কারণে নিয়মিত আমদানি-রপ্তানি ব্যাহত হচ্ছে। অথচ নাচ করার জন্য ডলার খরচ করে ভারত থেকে নোরা ফাতেহিকে আনা হয়েছে। এটা খুব ছোট জিনিস। আমার এখানে এটা উল্লেখ করার মূল উদ্দেশ হচ্ছে, যেখানে মানুষ নিত্যপণ্য কিনতে পারছে না, ওষুধ পাচ্ছে না। সেখানে এ ধরনের বিলাসিতা করে সাধারণ মানুষকে অপমান করা হয়েছে। যেখানে ডলারের অভাব। মানুষ ওমরা করতে যেতে পারছে না, বিভিন্ন ধর্মস্থলে যেতে পারছে না ডলার সংকটের কারণে।

কর্নেল অলি বলেন, ৬ মাস আগ পর্যন্ত ধৈর্য ধরে এবং ভয়ে মানুষ চুপচাপ ঘরে বসে ছিল। কিন্তু বিগত দুই মাস যাবৎ প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করেছে। অমানবিক কষ্ট সহ্য করে, ভয়কে জয় করে, নিজের পয়সা খরচ করে, জীবনের মায়া ত্যাগ করে, বিএনপির জনসভায় অংশগ্রহণ করে যাচ্ছে, যা অকল্পনীয়।

তিনি বলেন, পুলিশের নির্যাতনের কারণে অনেকে নিজ গৃহে ঘুমাতে পারে না। কিছু কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও কর্মচারী অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ এবং তাদের নিজের স্বার্থ রক্ষার জন্য অবৈধ সরকারকে নগ্নভাবে অবৈধ কর্মকাণ্ডে সাহায্য করে যাচ্ছে। সরাসরি জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করেছে। যারা অতীতে জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করেছিল, তাদের কিন্তু শেষ পরিণতি সুখকর হয়নি। সরকার তাদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

শেয়ার করতে ক্লিক করুন