পাট খাতকে পুনরুজ্জীবিত করতে প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলমের নানামুখী পদক্ষেপ

2
শেয়ার করতে ক্লিক করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের ঐতিহ্যবাহী পাট খাতকে পুনরুজ্জীবিত করতে এবং ‘সোনালি আঁশ’-এর হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে নানা উদ্যোগ হাতে নিয়েছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম। বন্ধ পাটকল পুনরায় চালু, পাটজাত পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধি, বহুমুখী পাটপণ্যের বাজার সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে তাঁর নেতৃত্বে মন্ত্রণালয় একাধিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। পাট খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিনের নানা সংকট কাটিয়ে দেশের পাটশিল্পকে লাভজনক ও আধুনিক শিল্পে রূপান্তরের প্রচেষ্টা এখন দৃশ্যমান। বিশেষ করে বন্ধ হয়ে থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোকে নতুন ব্যবস্থাপনায় চালুর উদ্যোগকে তারা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।
প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম জানান, দেশের বন্ধ পাটকলগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইজারা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এসব কারখানা সচল করে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। তাঁর তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে ইজারায় পরিচালিত নয়টি পাটকলে প্রায় ৭ হাজার ২০০ জন শ্রমিক ও কর্মচারী কাজ করছেন। তিনি বলেন, পাটশিল্পের সম্প্রসারণ কেবল শিল্প খাতের উন্নয়ন নয়, গ্রামীণ অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে পাট উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানি কার্যক্রমের সঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবিকা জড়িত।
পাট খাতের আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে সরকার কাঁচাপাট রপ্তানির পরিবর্তে মূল্য সংযোজিত পাটজাত পণ্য রপ্তানিতে জোর দিচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী শরিফুল আলম বলেছেন, কাঁচাপাট রপ্তানি তুলনামূলকভাবে কম লাভজনক হওয়ায় সরকার প্রক্রিয়াজাত পাটপণ্যের উৎপাদন ও রপ্তানিতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে উদ্যোক্তাদের জন্য কর-সুবিধাসহ বিভিন্ন প্রণোদনার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বিশ্বব্যাপী পরিবেশবান্ধব পণ্যের চাহিদা বাড়ার ফলে পাটজাত ব্যাগ, হোম টেক্সটাইল, কম্পোজিট পণ্য ও বহুমুখী জুট পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। সরকার সেই সুযোগ কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে।
পাট ও পাটজাত পণ্যের দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণে মেলা আয়োজন, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং পণ্যের প্রচারে গুরুত্ব দিচ্ছে মন্ত্রণালয়। জাতীয় পাট দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে বহুমুখী পাটপণ্যের মেলার আয়োজন করা হয়, যেখানে দেশীয় উদ্যোক্তারা তাদের উদ্ভাবনী পণ্য প্রদর্শনের সুযোগ পান। প্রতিমন্ত্রী বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পাটকে দেশের অর্থনীতির শক্তি এবং পরিবেশবান্ধব শিল্পের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। পাটপণ্যের বহুমুখী ব্যবহার বাড়াতে গবেষণা ও উদ্ভাবনেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মাঠপর্যায়ে পরিদর্শন ও শিল্প উন্নয়ন উদ্যোগ:
দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই প্রতিমন্ত্রী বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও উৎপাদনকেন্দ্র পরিদর্শন করছেন। রাজশাহী, দিনাজপুর ও নীলফামারী সফরে তিনি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন এবং স্থানীয় উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। শিল্পের বাস্তব সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে শিল্প খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি, উৎপাদনশীলতা উন্নয়ন এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা।
রপ্তানি আয় বৃদ্ধির প্রত্যাশা:
বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি করে ৪১৮ দশমিক ৬৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেশি। সরকার আশা করছে, আধুনিক প্রযুক্তি, বিনিয়োগ এবং বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে আগামী বছরগুলোতে এ খাতের রপ্তানি আয় আরও বাড়বে।
খাতসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বন্ধ পাটকল চালু, বহুমুখী পাটপণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি, উদ্যোক্তাদের প্রণোদনা এবং বাজার সম্প্রসারণের উদ্যোগ সফল হলে দেশের পাটশিল্প নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে পারে। আর সেই প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম।

 

শেয়ার করতে ক্লিক করুন